OMG! গৃহবধূকে কুপিয়ে খুন করে পালাল দুষ্কৃতীরা, ফের বাংলায় নৃশংস ঘটনা

খোল-করতালের শব্দে মগ্ন ছিল গোটা পাড়া। হরিনাম সংকীর্তনের সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশের মাঝেই ঘটে গেল এক নৃশংস রক্তপাত। মালদহের ইংরেজবাজার থানার মিলকি গ্রাম পঞ্চায়েতের আনন্দমোহনপুর এলাকায় এক গৃহবধূকে তাঁর নিজের শোয়ার ঘরেই কুপিয়ে ও মাথা থেঁতলে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম সাথী মণ্ডল (৪৫)। শনিবার গভীর রাতের এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম।

সবাই যখন কীর্তনে, ঘাতক তখন ঘরে

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দোলের দিন থেকে মিলকির গোসাইপুর এলাকায় কীর্তনের আসর বসেছে। শনিবার রাতে সাথীদেবীর স্বামী কালীপদ মণ্ডল এবং ছেলেমেয়েরা সেই আসরে গিয়েছিলেন। শরীর ভালো না থাকায় বাড়িতে একাই ছিলেন সাথীদেবী।

রাত দেড়টা নাগাদ কীর্তন সেরে পরিবারে সদস্যরা বাড়ি ফিরে দেখেন—

  • এক মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়ির পিছন দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

  • শোয়ার ঘরের মেঝেতে রক্তে ভেসে যাচ্ছেন সাথীদেবী।

  • তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

লুঠপাটে বাধা দেওয়ায় চরম পরিণতি?

মৃতার স্বামী কালীপদ মণ্ডলের অনুমান, বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই বুঝে অলঙ্কার ও টাকা লুঠ করতেই ঢুকেছিল দুষ্কৃতী দল। বাধা দেওয়াতেই তাঁর স্ত্রীকে নৃসংশভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সাথীদেবী একা পেয়েও দুষ্কৃতীদের সঙ্গে প্রবল ধস্তাধস্তি করেছিলেন, যার চিহ্ন তাঁর ক্ষতবিক্ষত শরীরে স্পষ্ট।

সক্রিয় কি কোনো ‘সিরিয়াল গ্যাং’?

এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, হোলির দিন রাতেও পার্শ্ববর্তী গোসাইপুর এলাকায় একই কায়দায় এক মহিলার ওপর হামলা চালিয়ে সোনাদানা লুঠ করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আনন্দমোহনপুরে এই খুনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে— তবে কি এলাকায় কোনো বিশেষ গ্যাং সক্রিয় হয়ে উঠেছে?

তদন্তে পুলিশ কুকুর

ইংরেজবাজার থানার পুলিশ রবিবার সকালে এলাকায় পুলিশ কুকুর এনে তল্লাশি চালালেও এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, অপরাধীদের ধরতে এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।