সুপ্রিম লিডার হতেই বেপাত্তা মোজতবা খামেনি! ইজরায়েলি সেনার হানায় কি গুরুতর জগত?

ইরানের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হল। আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ ঘোষণা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই ঘোষণার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে উধাও তিনি। সোমবার তেহরানের সরকারি টিভি তাঁকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করলেও, জনসমক্ষে একবারও দেখা যায়নি মোজতবাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন বিশ্বজুড়ে ডালপালা মেলছে একাধিক জল্পনা। কেউ বলছেন তিনি গুরুতর আহত, আবার কারও দাবি, ইজরায়েলি হানার ভয়ে তিনি নিরাপদ ডেরায় আত্মগোপন করেছেন।

ইজরায়েলের হুমকি ও মোজতবার নিখোঁজ রহস্য সম্প্রতি ইজরায়েল ও আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, তাদের অনুমতি ছাড়া ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচন করা যাবে না। ইজরায়েলের তরফে তো সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, ইরানের নতুন নেতা বিশ্বের যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে খতম করা হবে। মোজতবা খামেনিকে সরকারি টিভিতে ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করায় সন্দেহ আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নতুন পদে বসার আগেই মোজতবার ওপর হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল?

‘রমজান যুদ্ধ’ ও শিশুদের রক্তে ভিজছে ইরান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই লড়াইকে ইরান ‘রমজান যুদ্ধ’ নাম দিলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনাতীত। যুদ্ধের মাত্র ৯ দিনেই মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে। সবথেকে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মিনাব শহরে, যেখানে একটি স্কুলে হামলায় ১৬৮ জন নিরীহ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত প্রায় ১২ হাজার মানুষ হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। কয়েক হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্বের প্রভাব ও তেলের বাজারের অস্থিরতা ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। বাহরিনের সরকারি তেল কোম্পানি ‘বাপকো এনার্জিস’ তাদের শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হামলার পর ‘ফোর্স মেজার’ (Force Majeure) ঘোষণা করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতায় ইরানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে চিন। বেজিংয়ের সাফ কথা, এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এখানে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। অন্যদিকে, আমেরিকার সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। মোজতবা খামেনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকায় ইরানের ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।