শিশু পর্নোগ্রাফি নিয়ে ঐতিহাসিক রায়! শুধু দেখা বা মোবাইলে রাখলেই শ্রীঘর, কড়া বার্তা হাইকোর্টের

ডিজিটাল যুগে শিশু যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক অভূতপূর্ব ও কঠোর পদক্ষেপ নিল কর্নাটক হাইকোর্ট। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি বা শিশু পর্নোগ্রাফিক উপাদান শুধু প্রচার (Transmit) করলেই নয়, নিজের ডিভাইসে বা কাছে সংরক্ষণ (Possession) করে রাখলেও তা পকসো (POCSO) আইনের ১৫ নম্বর ধারার অধীনে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিচারপতি এম. নাগাপ্রসন্নের একক বেঞ্চ এই রায় দিয়ে শিশুদের সুরক্ষায় এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন।

কী ছিল সেই মামলা? ঘটনার সূত্রপাত এক ব্যক্তির মোবাইল তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। অন্য একটি তদন্ত চলাকালীন ওই ব্যক্তির ফোনে শিশু যৌন নির্যাতনের একাধিক ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। অভিযুক্ত দাবি করেছিলেন যে, তিনি ওইসব ভিডিও বা ছবি কাউকে শেয়ার করেননি, শুধু নিজের কাছে রেখেছিলেন। তাই পকসো আইনের ১৫ নম্বর ধারা তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কিন্তু আদালত এই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ‘ট্রান্সমিশন’ বা প্রচারের প্রমাণ না থাকলেও যদি সেই উপাদান এমনভাবে রাখা হয় যা শেয়ার করার সম্ভাবনা থাকে, তবেই অপরাধ গঠিত হবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতিফলন কর্নাটক হাইকোর্ট এই রায় দেওয়ার সময় ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স বনাম হরিশ’ মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনে। সুপ্রিম কোর্ট আগেই মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি রায় উল্টে দিয়ে বলেছিল, শিশু পর্নোগ্রাফি শুধু দেখা বা স্টোর করে রাখাও অপরাধ। আইটি (IT) আইনের ৬৭বি এবং পকসো আইনের ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এটি একটি ‘ইনচোয়েট অফেন্স’ (Inchoate Offence), অর্থাৎ অপরাধের প্রস্তুতি পর্বেও শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

শাস্তির বিধান ও প্রভাব এই রায়ের ফলে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাত আরও শক্তিশালী হল। এখন থেকে ডিজিটাল ডিভাইসে এই ধরনের নিষিদ্ধ উপাদান পাওয়া গেলেই পুলিশ মামলা করতে পারবে। অভিযুক্তকে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁর কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। দোষী সাব্যস্ত হলে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং মোটা টাকা জরিমানা হতে পারে। শিশু অধিকার কর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণ রোধ করা মানেই তার ছড়িয়ে পড়া রোধ করা।