ভরদুপুরে পুলিশের হানা! ৩১ মার্চের মধ্যে টাকা না মেটালে সব বাজেয়াপ্ত, চরম হুঁশিয়ারি মেয়রের দপ্তরের

আর্থিক বছর শেষ হওয়ার আগেই নজিরবিহীন তৎপরতা কলকাতা কর্পোরেশনের। সম্পত্তি কর বাকি রাখা করখেলাপিদের শায়েস্তা করতে এবার সরাসরি দোকান সিল করার পথে হাঁটল পুরসভা। সোমবার ভরদুপুরে ধর্মতলার জমজমাট শ্রীরাম আর্কেডে হানা দিয়ে অন্তত ১৫টি দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে দিলেন কর মূল্যায়ন বিভাগের আধিকারিকরা। পুরসভার স্পষ্ট বার্তা—হয় বকেয়া কর মেটাও, না হলে দোকান নিলাম করে টাকা আদায় করা হবে।

দোকান সিল হতেই শুরু টাকা আদায় কর্পোরেশন সূত্রে খবর, শ্রীরাম আর্কেড শপিং মল থেকে প্রায় ৫.৫ কোটি টাকা সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। বারবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও কাজ না হওয়ায় এদিন পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আচমকা হানা দেয় কর্পোরেশনের কর্মীরা। দোকানদাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় সিল করার প্রক্রিয়া। এই অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাপে পড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা বকেয়া কর জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

টার্গেট বড়বাজার থেকে গড়িয়াহাট পুরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুধু শ্রীরাম আর্কেড নয়, নিউ মার্কেট, বড়বাজার থেকে গড়িয়াহাট—শহরের প্রতিটি বাণিজ্যিক এলাকায় এই ধরনের অভিযান চলবে। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী মোটা টাকা মুনাফা করলেও ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পত্তি কর বকেয়া রাখছেন। উত্তর এবং মধ্য কলকাতার ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই প্রবণতা সবথেকে বেশি। এই অভিযানের মাধ্যমে সেই সমস্ত ব্যবসায়ীদের একটি বড় বার্তা দিতে চাইছে পুর প্রশাসন।

নিলামের হুঁশিয়ারি করখেলাপিদের হাতে সময় রয়েছে মাত্র ৩১ মার্চ পর্যন্ত। পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “যাঁদের দোকান বন্ধ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই টাকা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলেই আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। টাকা না দিলে দোকান বাজেয়াপ্ত করে তা নিলামে তোলা হবে।” আর্থিক বছর শেষের এই ‘মেগা ড্রাইভ’ ঘিরে এখন কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে।