‘এক বিছানায় শুয়েও কেন নায়িকারা কম টাকা পান?’ পারিশ্রমিক-বৈষম্য নিয়ে বিস্ফোরক সইফ আলি খান!

বলিউডের চকচকে দুনিয়ার আড়ালে এক চিরন্তন বিতর্ক—পারিশ্রমিক বৈষম্য। কেন একই ছবিতে সমান পরিশ্রম করেও নায়িকারা নায়কদের তুলনায় অনেকটা কম টাকা পান? দীপিকা পাড়ুকোন থেকে শুরু করে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, অনেকেই এই ‘লিঙ্গ বৈষম্য’ নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন। কিন্তু এবার এই জ্বলন্ত ইস্যুতেই একেবারে উল্টো সুর শোনা গেল পতৌদির নবাব সইফ আলি খানের গলায়। সইফের সাফ কথা, এই বৈষম্য লিঙ্গভিত্তিক নয়, বরং এটি একটি ‘ব্যালেন্সড ইকোনমিক সিস্টেম’।
বক্স অফিস পুলই কি আসল বিচার্য? সম্প্রতি বোন সোহা আলি খানের পডকাস্টে হাজির হয়েছিলেন সইফ আলি খান এবং কুণাল খেমু। সেখানেই বলিউডের এই বৈষম্য নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। সইফের দাবি, বলিউডের অর্থনীতি আবেগ বা লিঙ্গ দিয়ে চলে না; এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ‘বক্স অফিস পুল’ বা দর্শক টানার ক্ষমতার ওপর। সইফ বলেন, “যদি আপনি থিয়েটারে দর্শকদের সিটে বসাতে পারেন, তবেই আপনি সেই অনুযায়ী টাকা পাবেন। এটা ইন্ডাস্ট্রির সবাই বোঝেন।” অর্থাৎ, তাঁর মতে, পর্দার নায়ক বা নায়িকা কে কতটা জনপ্রিয় এবং কার নামে কত টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে, সেটাই পারিশ্রমিকের মূল মাপকাঠি।
কুণাল খেমুর গাণিতিক যুক্তি সইফের সুরে সুর মিলিয়ে কুণাল খেমুও বিষয়টিকে একটি গাণিতিক সমীকরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, ডিস্ট্রিবিউটর বা পরিবেশকরা ছবি কেনার আগে হিসেব কষেন যে একজন নির্দিষ্ট অভিনেতাকে নিলে কত টাকা উঠে আসবে। যেখানে বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার গ্যারান্টি বেশি, সেখানেই পারিশ্রমিক বেশি। অর্থাৎ, সইফ ও কুণাল দুজনেই বোঝাতে চেয়েছেন যে এটি কোনো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নয়, বরং একটি খাঁটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।
বিতর্কের নতুন মোড়: আলিয়া-কঙ্গনাদের লড়াই কোথায়? তবে সইফের এই যুক্তি মানতে নারাজ নেটিজেনদের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে, আলিয়া ভাট বা কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো অভিনেত্রীরা যখন একার কাঁধে ছবি সুপারহিট করান, তখনও কেন তাঁরা অনেক মাঝারি মানের নায়কদের চেয়ে কম পারিশ্রমিক পান? সইফ অবশ্য মনে করেন, যদি দুজন শিল্পী সমমানের জনপ্রিয় হন, তবেই তাঁদের সমান টাকা পাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দর্শক টানার ক্ষমতায় এখনও নায়করাই এগিয়ে থাকেন বলে মনে করেন তিনি।