‘ব্লাড প্রেশার তো নরমালই আছে’, ইস্তফা নিয়ে জল্পনার মাঝেই কেন এমন বললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে সবথেকে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সি ভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগ। গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর জায়গায় বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন আর এন রবি। কিন্তু কেন এই অসময়ে পদ ছাড়লেন বোস? সোমবার কলকাতায় নিজের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেই রহস্যের জট ছাড়ানোর বদলে ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়ে দিলেন তিনি।

চাপ বনাম ব্লাড প্রেশার: এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে আনন্দ বোস স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা ও রহস্যময়ী ভঙ্গিতে উত্তর দেন। তাঁকে কি কেন্দ্র বা অন্য কোনো মহলের চাপে ইস্তফা দিতে হয়েছে? এই সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন রাজ্যপাল বলেন, “চাপে পড়ে পদত্যাগ করেছি কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।” এরপরই মুচকি হেসে তিনি যোগ করেন, “আমার রক্তচাপ (Blood Pressure) নিয়ে জানতে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। উনি জানিয়েছেন, প্রেশার একেবারেই স্বাভাবিক আছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে যে, তিনি কি আকারে-ইঙ্গিতে কেন্দ্রকে কোনো বার্তা দিতে চাইলেন?

রাজভবনে ব্রাত্য আনন্দ বোস: ইস্তফা দিয়ে কলকাতায় ফিরলেও আর নিজের পুরনো বাসভবন ‘লোক ভবনে’ (রাজভবন) পা রাখেননি আনন্দ বোস। অনেকে বলছেন, অভিমানেই তিনি রাজভবন এড়িয়ে চলছেন। তবে বোসের যুক্তি অন্যরকম। তিনি বলেন, “যতদিন রাজ্যপাল ছিলাম, লোক ভবনে থাকতাম। আমি মানুষের মাঝে থাকতে ভালোবাসি, তাই এখন অন্য জায়গায় আছি।” তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পদ ছাড়লেও বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। বাংলাকে নিজের ঘরের মতো মনে করেন এবং বারবার ফিরে আসবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে যখন এই ইস্তফা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে, তখন আনন্দ বোসের এই ‘নীরবতা’ এবং ‘প্রেশার’ তত্ত্ব নতুন কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।