ভোটের দফায় ১৮০ ডিগ্রি ডিগবাজি বিজেপির! ২০২৬-এর আগে কমিশনের বৈঠকে বিরাট চমক

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাজ্যে ৮-৯ দফায় ভোটের সওয়াল করা বিজেপি এবার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। আজ কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপি প্রতিনিধি দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এবার রাজ্যে মাত্র ১ বা ২ দফায় ভোট চায়। একুশের নির্বাচনের সেই দীর্ঘায়িত ভোট প্রক্রিয়ার দাবি থেকে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেরুয়া শিবিরের এই নয়া অবস্থান ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।

বিজেপির নয়া রণকৌশল ও ১৮ দফা দাবি: সোমবার তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে। সেখানে দীর্ঘ ৬ সপ্তাহের বদলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভোট শেষ করার আর্জি জানানো হয়। পাশাপাশি পেশ করা হয় ১৮ দফা দাবি:

  • পুলিশকে ‘নো এন্ট্রি’: বুথের ভেতরে বা ভোট গণনা কেন্দ্রে রাজ্য বা কলকাতা পুলিশের কোনো ভূমিকা রাখা চলবে না। পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)।

  • সংবেদনশীল বুথ: যে সমস্ত বুথে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বা যেখানে অতীতে হিংসা হয়েছে, সেগুলোকে আগেভাগেই ‘সংবেদনশীল’ ঘোষণা করতে হবে।

  • ওয়েবক্যাম বিভ্রাটে ভোট বন্ধ: প্রতিটি বুথে ওয়েবক্যাম বাধ্যতামূলক। কোনো কারণে ক্যামেরা বিকল হলে তৎক্ষণাৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ করে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে বিজেপি।

  • চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বর্জন: পোলিং অফিসার হিসেবে কোনো সিভিক ভলান্টিয়ার বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষককে নিয়োগ করা যাবে না। ভোটকর্মীদের মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রের অনুপাত হতে হবে ৫০:৫০।

বিজেপির এই নয়া কৌশলের পাশাপাশি বামেরাও ১ থেকে ২ দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার, বিরোধীদের এই ‘স্বল্প দফার’ দাবিতে কমিশন সিলমোহর দেয় কি না।