১০ মার্চ দেশজুড়ে অন্ধকারে ডোবার আশঙ্কা! ২৭ লক্ষ বিদ্যুৎ কর্মীর ‘লাইটনিং স্ট্রাইক’-এর ডাক

দেশের বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত ‘বিদ্যুৎ সংশোধন বিল ২০২৫’ (Electricity Amendment Bill 2025)-এর খসড়া ইতিমধ্য়েই জনসমক্ষে এসেছে। কিন্তু এই বিল ঘিরেই এখন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বিদ্যুৎ মহল। অল ইন্ডিয়া পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার্স ফেডারেশন (AIPEF)-এর নেতৃত্বে আগামী ১০ মার্চ দেশজুড়ে কাজ বয়কট এবং গণ-আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষ বিদ্যুৎ কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার।

সরকারের দাবি, এই বিল কার্যকর হলে একই এলাকায় একাধিক বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা কাজ করতে পারবে, যা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রাহকদের উন্নত পরিষেবা দেবে। পাশাপাশি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিল্প ও রেলের জন্য ‘ক্রস-সাবসিডি’ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎপাদন খরচ কমে। তবে এই ‘কস্ট রিফ্লেকটিভ ট্যারিফ’ বা বিদ্যুতের আসল খরচের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা। যদিও সরকার বলছে গরিব ও কৃষকদের সাবসিডি বজায় থাকবে, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এটি আসলে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে পুরোপুরি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত।

১০ মার্চের এই ‘লাইটনিং অ্যাকশন’-এ শামিল হচ্ছে একাধিক শক্তিশালী কৃষক সংগঠনও। এআইপিইএফ চেয়ারম্যান শৈলেন্দ্র দুবে কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, স্টেকহোল্ডারদের মতামত উপেক্ষা করে এই বিল আনা হয়েছে যা পাবলিক সেক্টরের বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে পঙ্গু করে দেবে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, তেলঙ্গানা-সহ একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্য়েই প্রতিবাদের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। ১০ মার্চ যদি ২৭ লক্ষ কর্মী একসঙ্গে কাজ বন্ধ করেন, তবে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি পরিষেবা থমকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের সংস্কার বনাম কর্মীদের অধিকার—এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।