“৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ভোট নয়”, সাফ বার্তা সেলিমের; উল্টো পথে হেঁটে ১ দফায় ভোট চাইল বিজেপি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে উত্তাল বাংলা। আজ, ৯ মার্চ সোমবার কলকাতার এক বেসরকারি হোটেলে সবকটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকে বসল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের এই সফর ঘিরে এদিন সকাল থেকেই সরগরম ছিল সল্টলেক এলাকা।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে বাম ও গেরুয়া— দুই শিবিরের থেকেই এল সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দাবি। সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। বিশেষ সংশোধনী বা SIR তালিকার নামে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ফিরিয়ে না দিয়ে ভোট করা সম্ভব নয়।” সেলিম আরও দাবি করেন যে, সাত-আট দফায় নয়, বড়জোড় এক বা দুই দফায় ভোট হওয়া উচিত। প্রশাসনিক আধিকারিকদের গাফিলতির কথা খোদ কমিশনই বৈঠকে স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, আশ্চর্যজনকভাবে একুশের নির্বাচনের অবস্থান থেকে ‘১৮০ ডিগ্রি’ ঘুরে গেল বিজেপি। অতীতে দফায় দফায় ভোটের পক্ষপাতী বিজেপি এবার ১ বা ২ দফায় ভোট করানোর পক্ষে সওয়াল করল। বিজেপির প্রতিনিধি দলে থাকা তাপস রায় ও শিশির বাজোরিয়া কমিশনের কাছে ১৬ দফা দাবি পেশ করেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভোট চললে সাধারণ মানুষের সমস্যা হয়। তবে সংবেদনশীল বুথগুলি চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘বসে থাকতে বাধ্য করছে’, তা নিয়েও কমিশনের কাছে কড়া অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি।

বিকেল থেকে কমিশন প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। মে মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে দিল্লির। ফলে আজকের এই বৈঠকই বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ের নকশা নির্ধারণ করে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।