জ্বালানি সংকটে কাঁপছে বাংলাদেশ! তারেক রহমান সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে বন্ধ সব বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্য এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির আঁচ এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় এবং জাতীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সোমবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল তারেক রহমান সরকার। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার থেকেই দেশজুড়ে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রকের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কায় বিদ্যুতের ব্যবহার ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা। নবগঠিত সরকার দেশজুড়ে ব্যয়সাশ্রয়ী অভিযান শুরু করেছে, যার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
প্রশাসনের আশঙ্কা, ইরান ও মধ্য এশিয়ায় চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি আমদানির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এবং বিদ্যুতের সাজসজ্জা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রক।
এদিকে, তেলের সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকা-সহ সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গিয়েছে। মোটর চালকদের অনেক ক্ষেত্রে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) অবশ্য দাবি করেছে যে দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তবে সাবধানতার খাতিরেই ব্যক্তিগত যানবাহন কমিয়ে গণপরিবহনে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ওপর বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।