মদে প্রস্রাব মিশিয়ে খাওয়ানো হল মহিলাকে! গ্রামপ্রধানের বাড়িতে সাহায্য চাইতে গিয়ে জুটল মর্মান্তিক মৃত্যু

বিহারের মধুবনী জেলার ঘোঘরডিহা ব্লকের আঁহি গ্রামে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। জমি সংক্রান্ত বিবাদ মেটাতে গ্রামপ্রধানের বাড়িতে সাহায্য চাইতে গিয়ে নির্মম অত্যাচারের শিকার হলেন এক মহিলা। অভিযোগ, ওই মহিলাকে খুঁটিতে বেঁধে বাঁশ দিয়ে মারধর করার পর তাঁকে জোর করে মদে প্রস্রাব মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার পটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ওই মহিলা তাঁর পরিবারের জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে গ্রামপ্রধান কুমারী দেবীর কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার বদলে শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, গ্রামপ্রধানের ছেলে মগনু সিং ও তাঁর সঙ্গীরা ওই মহিলাকে একটি খুঁটিতে বেঁধে অমানবিক মারধর শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মারধরের চোটে মহিলা জ্ঞান হারালে এবং জল চাইলে তৃষ্ণা মেটাতে তাঁকে জোর করে মদে প্রস্রাব মিশিয়ে পান করতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত আমহি গ্রামে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় মহিলাকে উদ্ধার করে। প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পটনায় স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। মৃতার স্বামীর অভিযোগ, পুলিশ শুরুতে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বললেও তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলা রুজু হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
মধুবনীর ডিএসপি অমিত কুমার জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত মগনু সিংকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রামপ্রধান কুমারী দেবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। মানসুরি সম্প্রদায়ের রাজ্য সভাপতি অজয় মানসুরি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি তুলেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই অত্যাচারের মাত্রা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে পুলিশ।