পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ১০ম দিন: ইরানের ৩ জাহাজকে ভারতের বিশেষ অনুমতি! সংসদে বড় ঘোষণা জয়শঙ্করের

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান রণক্ষেত্র এখন ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। গালফ অঞ্চলের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত সোমবার দশম দিনে প্রবেশ করেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার রাজ্যসভায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভারতের জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাই মোদী সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ভারত গত ১ মার্চ ইরানের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বলে এদিন সংসদে জানান তিনি।

বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিনেই পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিয়ে সরকারকে চেপে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিল বিরোধী শিবির। হট্টগোল ও স্লোগানের মাঝেই জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে জানান, “আমরা সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। পশ্চিম এশিয়ায় আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র সব ধরনের কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতের জাতীয় স্বার্থ কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না।

বিদেশমন্ত্রীর মতে, চলমান এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব ভারতের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে জয়শঙ্কর আশ্বাস দেন যে, ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। এই সংঘাত এখন লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলিকেও টেনে আনছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করছে।”

একদিকে যখন ওম বিড়লার অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে লোকসভা উত্তাল, অন্যদিকে রাজ্যসভায় জয়শঙ্করের এই ব্রিফিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই অধিবেশনে ভারত তার কূটনৈতিক অবস্থান কতটা শক্ত রাখতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। আপাতত পশ্চিম এশিয়ায় ‘সংযম এবং শান্তি’র বার্তাই দিচ্ছে দিল্লি।