নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক! বাংলায় ১ দফায় ভোটের দাবিতে এককাট্টা বিজেপি-সিপিএম

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। রবিবার রাতে কলকাতায় পা রাখার পর সোমবার সকাল থেকেই তৎপর নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এদিন সল্টলেকের এক বেসরকারি হোটেলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুযুধান দুই পক্ষ বিজেপি এবং সিপিএম—উভয়েই বাংলায় এক বা বড়জোর দুই দফায় ভোট করানোর জোরালো দাবি জানিয়েছে।
বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিশির বাজোরিয়া, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও তাপস রায়। বৈঠকের পর তাঁরা জানান, বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথাযথ ব্যবহার এবং ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে কমিশনের কাছে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। এছাড়াও স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণ এবং ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে আগাম রুটমার্চের দাবি তুলেছে তারা। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, প্রশাসনের একাংশ শাসকদলের হয়ে কাজ করছে, সেই ‘তন্ত্র’ ভাঙতে হবে।
অন্যদিকে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে টালবাহানা চলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেলিম প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন কমিশন কেন নির্যাতন কমিশন হয়ে গেল?” ভোটার তালিকায় নামের বানান ভুল থাকার অজুহাতে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মনে করিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে ‘সরষের মধ্যে ভূত’ তাড়াতে দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বামেরা।
উভয় দলেরই সাধারণ দাবি—বাংলায় ভোটের দফা কমিয়ে আনা হোক। রাজনৈতিক মহলের মতে, এক বা দুই দফায় ভোট হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে বিরোধী শিবির। এখন দেখার, রাজনৈতিক দলগুলোর এই একগুচ্ছ দাবি খতিয়ে দেখে কমিশন কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।