ইরান যুদ্ধে ‘সাপ্লাই চেইন’ বড় ধাক্কা খেতে পারে, কী হতে চলেছে পেট্রোল-ডিজেলের ভবিষ্যৎ?

সোমবার রাজ্যসভায় বিরোধীদের প্রবল স্লোগানের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি যাই হোক না কেন, মোদী সরকারের কাছে ‘ভারতীয় ভোক্তাদের স্বার্থই প্রধান অগ্রাধিকার’। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন যাতে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য সরকার ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে।
বিস্ফোরক তথ্য: ইরানি জাহাজকে আশ্রয় দিল ভারত
সংসদে জয়শঙ্কর একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভারত মহাসাগরে থাকা তিনটি ইরানি জাহাজের মধ্যে একটিকে ভারতের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি এবং নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের অনুরোধেই এই মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি, যার জন্য তেহরান কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে।
অপারেশন রেসকিউ: ফিরেছেন ৬৭,০০০ ভারতীয়
বিদেশমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে সৌদি আরব ও কাতারের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন।
-
উদ্ধারকার্য: ইরান থেকে আর্মেনিয়া হয়ে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
-
পরিসংখ্যান: এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৭,০০০ ভারতীয় নাগরিক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দেশে ফিরে এসেছেন।
-
কূটনীতি: জয়শঙ্কর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৫ মার্চ ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দামে কী প্রভাব পড়বে? জয়শঙ্করের মতে, সরকার সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। ১ মার্চ নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (CCS) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ভারতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিকল্প পথের সন্ধান এবং কূটনীতি— দুইই সমানতালে চলছে।
সংসদে হট্টগোল ও ওম বিড়লা প্রসঙ্গ
এদিন বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিরোধী সাংসদরা ক্রমাগত স্লোগান দিতে থাকেন। একদিকে ইরানের যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লাকে অপসারণের প্রস্তাব ঘিরে আজকের সংসদীয় কার্যক্রম ছিল নজিরবিহীনভাবে উত্তপ্ত। ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই অধিবেশনে আরও বড় কোনও সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলছে।