ভবানী ভবনের নজিরবিহীন নির্দেশ! তিন মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের বদলি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য পুলিশ মহলে!

রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা এবং এক্তিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও বিতর্কের মাঝে এক নজিরবিহীন ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সাধারণত স্থানীয় থানার এক্তিয়ারভুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারদের বদলি বা পরিচালনার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট বা পুলিশ জেলার ওপর। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে খোদ রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর অর্থাৎ ভবানী ভবন থেকে তিন মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আইজি (অর্গানাইজেশন)-এর পক্ষ থেকে জারি করা এই নির্দেশিকায় ভবানী ভবনের সিলমোহর থাকায় তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক ধোঁয়াশা।
কলকাতা হাইকোর্ট ইতিপূর্বেই একাধিক মামলায় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সিভিক ভলান্টিয়াররা কোনোভাবেই পুলিশের অবিচ্ছেদ্য অংশ নন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বা স্পর্শকাতর কাজে তাঁদের ব্যবহার করা যাবে না বলেও আদালতের কড়া নির্দেশ রয়েছে। সরকারি নীতিতেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশের মূল স্তম্ভের বাইরে থেকে তাঁরা কেবল সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন। এই আইনি সীমাবদ্ধতার মাঝে সরাসরি সদর দপ্তর থেকে বদলির নির্দেশ আসায় প্রশ্ন উঠছে—তবে কি সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রশাসনিক কাঠামোতে কোনো বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে?
২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘গ্রিন পুলিশ’-এর পরিবর্তে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ শুরু হয়। একটি ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডার’-এর মাধ্যমে প্রথমে হাওড়া ও আসানসোলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। যেহেতু তাঁদের নিয়োগ স্থানীয় স্তরে হয়, তাই ভবানী ভবনের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি প্রশাসনিক যোগসূত্র সচরাচর দেখা যায় না। কেন এই তিন মহিলা কর্মীকে বদলি করা হলো এবং কেনই বা সদর দপ্তরকে হস্তক্ষেপ করতে হলো, তা নিয়ে মুখ খোলেনি প্রশাসন। এই রহস্যজনক বদলি ঘিরে এখন সরগরম লালবাজার থেকে ভবানী ভবন।