লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৪০০০ নয়, ৪০,০০০ টাকার তছরুপ! ৫ বছর ধরে কার পকেটে যাচ্ছে মহিলার টাকা?

রাজ্য সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার বিস্ফোরক জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগের তির সরাসরি প্রশাসনের দিকে। হাওড়ার বাসিন্দা মৌমিতা মণ্ডলের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর প্রাপ্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা অন্য কারও অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জালিয়াতির শিকার হয়েও বিচার পাননি তিনি, অথচ তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
মৌমিতা জানিয়েছেন, ২০২১ সালে প্রকল্পটির সূচনালগ্নেই তিনি আবেদন করেছিলেন। নিয়মানুযায়ী তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার কথা থাকলেও, অজ্ঞাত কারণে তা পৌঁছে যাচ্ছে অন্য ঠিকানায়। এই বিষয়ে তিনি বারবার জেলা প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন। এমনকি একাধিকবার ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে গিয়েও সুরাহা মেলেনি। মৌমিতার অভিযোগ, “প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। উল্টে আমাকে বলা হয়েছে, টাকা অন্য কোথাও গেলে তাদের কিছু করার নেই।”
বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১৮০০ টাকা করে পাচ্ছেন। মৌমিতার হিসেব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তাঁর বকেয়া পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এর আগেও হাওড়ার আরেক বাসিন্দা কবিতা মণ্ডল একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন। বারবার একই জেলা থেকে এহেন অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের অন্দরে একটি সক্রিয় জালিয়াতি চক্রের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বপ্নের প্রকল্পে সাধারণ মানুষের টাকা এভাবেই তছরুপ হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ জনমানসে।