“সোশ্যাল মিডিয়াকে জবাব দেব না!” বিশ্বজয়ের পর রণংদেহী মেজাজে গম্ভীর, ট্রফি উৎসর্গ করলেন দ্রাবিড়-লক্ষ্মণকে!

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় যেন গৌতম গম্ভীরের কোচিং কেরিয়ারের এক অগ্নিপরীক্ষা ছিল। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হারের পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার আমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানে হারিয়ে ট্রফি জিততেই পাল্টে গেল প্রেক্ষাপট। চিরকালই সোজাসাপ্টা কথা বলতে অভ্যস্ত গম্ভীর জয়ের পর সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমার জবাবদিহিতা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নয়, বরং ড্রেসিং রুমের ওই ৩০ জন মানুষের কাছে। একজন কোচ ততটাই ভালো, যতটা তাঁর দল।”

বিশ্বজয়ের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পূর্বসূরিদের ভোলেননি গম্ভীর। তিনি এই জয় উৎসর্গ করেছেন প্রাক্তন কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ভিভিএস লক্ষ্মণকে। গম্ভীরের মতে, দ্রাবিড় দলকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন এবং লক্ষ্মণ বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের তৈরি করছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর এবং আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের প্রতিও। গম্ভীর জানান, যখন তিনি ঘরের মাঠে টেস্ট হেরে প্রবল চাপের মুখে ছিলেন, তখন জয় শাহ ফোন করে তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন।

আমেদাবাদের ফাইনালে ভারতের ২৫৫ রান তোলার সাহসী মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “রক্ষণশীল ক্রিকেট খেলে হারার চেয়ে ১২০ রানে অল-আউট হওয়া ভালো। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ২৫০ রান করার সাহস দেখানোই আমাদের লক্ষ্য ছিল।” অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি তাঁকে ‘পিতার মতো নেতা’ বলে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে তাঁর বিশেষ অনুরোধ— ব্যক্তিগত মাইলফলক বা শতরান উদ্‌যাপন করা বন্ধ করে দেশ হিসেবে ট্রফি জয়কেই বড় করে দেখুন।