বাবার কুর্সিতেই মোজতবা! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই-পুত্র, যুদ্ধের বাজারে বড় চাল তেহরানের!

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের স্তূপে এবার নতুন স্ফুলিঙ্গ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর স্থলাভিষিক্ত হলেন তাঁরই ৫৬ বছর বয়সি পুত্র মোজতবা খামেনেই। রবিবার ইরানের ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) সর্বসম্মতিক্রমে মোজতবাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। খামেনেইর মৃত্যুর ঠিক ৯ দিন পর এই সিদ্ধান্ত তেহরানের কড়া মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
মোজতবার নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই সুর চড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আমেরিকার দাক্ষিণ্য ছাড়া ইরানের কোনও নেতা বেশিদিন টিকতে পারবেন না। এমনকি ট্রাম্পকে পাল্টা তোপ দেগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এখানে কারও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।” উল্টে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছে তেহরান।
সিংহাসন বদলের এই সন্ধিক্ষণে তেহরানের ওপর আছড়ে পড়েছে ইজরায়েলি হামলা। রবিবার রাতে রাজধানীর পাঁচটি প্রধান তেল ভাণ্ডারে হামলা চালায় ইজরায়েল, যাতে অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গোটা তেহরান এখন বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আর পোড়া তেলের গন্ধে দমবন্ধকর। প্রশাসন নাগরিকদের ঘরে থাকার আর্জি জানিয়েছে। তবে ইরানও দমবার পাত্র নয়। সরকারি মুখপাত্র আলী মহম্মদ নাইনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান এবার তাদের তুরুপের তাস অর্থাৎ উন্নত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে চলেছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতায় ইতিমধ্যে ১২০০ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। মোজতবার আগমনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।