ওম বিড়লার ভাগ্য নির্ধারণ আজ! সংসদের অগ্নিপরীক্ষায় রাহুল বনাম মোদী, কার পাল্লা ভারী?

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে আজ ওম বিড়লাকে সরানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হতে চলেছে। কংগ্রেসসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ১১৮ জন সাংসদ এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন। বিরোধীদের মূল অভিযোগ— স্পিকার ‘প্রকাশ্য পক্ষপাত’ করছেন এবং শাসকদলের হয়ে কাজ করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছেন। প্রাথমিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) কিছুটা দোটানায় থাকলেও, শেষ মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘাসফুল শিবিরের সাংসদরাও এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন।

কীভাবে সরানো যায় লোকসভার স্পিকারকে? (সংবিধানের নিয়ম)

সংবিধানের ধারা ৯৪(সি) অনুযায়ী স্পিকারকে সরানোর একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে:

  • ১৪ দিনের নোটিস: স্পিকারকে সরানোর জন্য অন্তত ১৪ দিন আগে লোকসভার মহাসচিবকে লিখিতভাবে জানাতে হয়।

  • ৫০ জন সদস্যের সমর্থন: প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য অন্তত ৫০ জন সাংসদের সমর্থন বাধ্যতামূলক।

  • অংশগ্রহণ ও ভোটাভুটি: প্রস্তাবটি যখন আলোচনা হবে, ওম বিড়লা সভায় উপস্থিত থাকলেও সভাপতিত্ব করতে পারবেন না। তিনি সাধারণ সদস্য হিসেবে বিতর্কে অংশ নিতে পারবেন এবং প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন (তবে ভোটের ফল ড্র হলে তিনি দ্বিতীয়বার ‘কাস্টিং ভোট’ দিতে পারবেন না)।

নম্বর গেম: গাণিতিক হিসেবে কার অবস্থান কোথায়?

স্পিকারকে পদ থেকে সরাতে গেলে লোকসভার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Simple Majority) অর্থাৎ অন্তত ২৭২টি ভোটের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে বিরোধীদের জয় পাওয়া কঠিন:

পক্ষ দল/জোট সাংসদ সংখ্যা ফলাফল
সরকার (NDA) বিজেপি, জেডিইউ, টিডিপি ও অন্যান্য ২৯৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে
বিরোধী (INDIA) কংগ্রেস, এসপি, তৃণমূল ও অন্যান্য ২৩৮ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩৪টি কম

বিজেপির হাতে থাকা ২৯৩টি আসন এই যাত্রায় ওম বিড়লাকে বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে বিরোধীদের লক্ষ্য জয় নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে জনসমক্ষে বড় বার্তা দেওয়া।

আজকের বিশেষ আকর্ষণ

  • বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বনাম ট্রেজারি বেঞ্চের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ।

  • স্পিকার নিজেই আজ সংসদ পরিচালনা থেকে দূরে থাকছেন, যা এক বিরল সংসদীয় নজির।

  • তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান বদল এবং তাদের সাংসদদের ঝাঁঝালো ভাষণ।