‘নারী দিবসে মহিলা রাষ্ট্রপতিকেই চরম অপমান!’ বাংলার মাটি থেকে মমতাকে নজিরবিহীন আক্রমণ মোদীর

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, রবিবার তা দিল্লির দরবারে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট জানালেন, এক জন আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত না জানিয়ে তৃণমূল সরকার কেবল সংবিধান নয়, নারী শক্তি এবং গোটা জনজাতি সমাজকে অপমান করেছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট: শনিবার শিলিগুড়িতে একটি আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু প্রোটোকল ভেঙে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর বা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য। খোদ রাষ্ট্রপতি মঞ্চ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বুঝতে পারছি কেউ বাধা দিচ্ছে।” এর পরেই আসরে নামেন অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা যুক্তি দেন যে, তিনি জনগণের স্বার্থে ধরনায় বসে আছেন, তাই তাঁর পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
মোদীর আক্রমণ: রবিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, “আজ যখন সারা বিশ্ব নারী দিবস পালন করছে, তার ঠিক আগের দিন পশ্চিমবঙ্গে এক জন মহিলা রাষ্ট্রপতিকে চূড়ান্ত অপমান করা হল। দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসীদের উৎসবে সামিল হতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তৃণমূল সাঁওতালদের অপমান করেছে। এটা সংবিধানের স্পিরিট এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, যারা জীবনযুদ্ধের লড়াই পেরিয়ে সাফল্য পেয়েছেন, তৃণমূলের এই আচরণ সেই সমস্ত নারীদের জন্য অবমাননাকর।
তৃণমূলের পালটা চাল: প্রধানমন্ত্রীকে পালটা বিঁধতে ছাড়েনি তৃণমূলও। দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “সংসদ ভবন উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে রাষ্ট্রপতিকে ডাকেননি। সেটা ছিল গণতন্ত্রের কালো দিন। এখন ভোটের মুখে ফায়দা তুলতে রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন মোদীজি।” রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য এই নজিরবিহীন সংঘাত ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে যে নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলাই বাহুল্য।