CEC-র আঙুল কেটে নেওয়ার হুমকি! কল্যাণের বিরুদ্ধে দিল্লির দরবারে বিজেপি, জেলের ঘানি টানবেন তৃণমূল সাংসদ?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আঙুল কেটে নেওয়া’র প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে এবার বড়সড় আইনি প্যাঁচে জড়াতে চলেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শুক্রবার মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চ থেকে করা কল্যাণের সেই বিতর্কিত মন্তব্যের পাল্টা এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (EC) দ্বারস্থ হল বিজেপি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক কড়া ধারার কথা উল্লেখ করে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

কী বলেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? সাংসদ কল্যাণের অভিযোগ ছিল, দিল্লিতে বৈঠক চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন CEC জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেছেন কমিশনার। এর রেশ টেনেই কল্যাণ হুমকি দেন, “আপনি যদি চিফ ইলেকশন কমিশনার না হতেন, আঙুলটা আপনার কেটে বাদ দিয়ে আসতাম।” এখানেই থামেননি তিনি, কমিশনারকে ‘অমিত শাহর দয়া’য় আসা ব্যক্তি এবং ‘গোয়ার গোবিন্দ’ বলেও আক্রমণ শানান।

বিজেপির হাতিয়ার BNS-এর কড়া ধারা: নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে বিজেপি মূলত তিনটি ধারার উল্লেখ করেছে:

  • BNS ধারা ২২৪: সরকারি কর্মচারীকে আঘাতের হুমকি। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

  • BNS ধারা ৩৫১(১): ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শন। কোনো সাংবিধানিক পদের আধিকারিককে ভয় দেখিয়ে কাজে বাধা দিলে এই ধারা প্রযোজ্য।

  • BNS ধারা ২২১: সরকারি কাজে বাধা দান। এর জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস জেল বা জরিমানার সংস্থান রয়েছে।

বিজেপির দাবি, এটি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা। নির্বাচনী মরশুমের ঠিক আগে কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, দিল্লির নর্থ ব্লক থেকে এই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।