‘ভারত এখনও পুরুষতান্ত্রিক!’ মিউজিক চার্টে মেয়েদের ব্রাত্য হওয়া নিয়ে কেন ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রেয়া ঘোষাল?

লতা মঙ্গেশকর কিংবা আশা ভোঁসলের স্বর্ণযুগে ভারতীয় সঙ্গীত জগতের রাশ ছিল নারীদের হাতে। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। গ্লোবাল চার্টে যখন টেলর সুইফট বা রিহানারা রাজত্ব করছেন, তখন ভারতের মিউজিক চার্ট থেকে কার্যত হারিয়ে যাচ্ছেন মহিলা গায়িকারা। ইন্ডাস্ট্রির এই একতরফা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে এবার গর্জে উঠলেন দেশের ‘মেলোডি কুইন’ শ্রেয়া ঘোষাল।

পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে শ্রেয়া ঘোষাল বলেন, “সত্যি বলতে ভারত এখনও কিছুটা পুরুষতান্ত্রিক। আপনি শুধু মিউজিক চার্টের দিকে তাকান। প্রথম ৫০টি গানের মধ্যে কয়টি গান মেয়েদের গাওয়া? খুঁজলে বড়জোর ৬-৭টি পাওয়া যাবে। সেরা দশে তো নারী কণ্ঠ নেই বললেই চলে।” শ্রেয়ার এই প্রশ্ন সরাসরি আঙুল তুলে দিয়েছে বলিউডের বর্তমান গান তৈরির কাঠামোর দিকে।

লতা-আশা বনাম বর্তমান প্রজন্ম শ্রেয়া মনে করিয়ে দেন, একটা সময় ছিল যখন লতা মঙ্গেশকর বা আশা ভোঁসলেদের দাপটে পুরুষ গায়করা কার্যত কোণঠাসা থাকতেন। তাঁদের গানের সংখ্যা এবং জনপ্রিয়তার কাছে সবাই হার মানত। কিন্তু গত এক দশকে সেই সমীকরণ পাল্টে গিয়েছে। শ্রেয়ার মতে, গত ১০ বছর ধরে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এক অদ্ভুত বিভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। প্রচুর ফিউশন বা এক্সপেরিমেন্ট হলেও মৌলিকতা এবং নারী কণ্ঠের গুরুত্ব যেন কোথাও একটা ধাক্কা খাচ্ছে।

সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়েও চিন্তিত শ্রেয়া সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘দেবদাস’ দিয়ে কেরিয়ার শুরু করে আজ তিনি জাতীয় স্তরের মহাতারকা। সামনেই তাঁর ‘দ্য আনস্টপেবল ওয়ার্ল্ড ট্যুর’। ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবু ধাবি— সর্বত্রই তাঁর সুরের জাদু ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু নিজের সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়েও নতুন প্রজন্মের মেয়েদের জন্য চিন্তিত শ্রেয়া। অমল মালিকের সঙ্গে তাঁর নতুন কাজ ‘যহি গুজার দু’ নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, তখনই ইন্ডাস্ট্রির এই লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শ্রেয়া আশাবাদী, এই জগাখিচুড়ি পরিস্থিতি কাটিয়ে শীঘ্রই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে সমতা ফিরবে।