নিজের ডাকা এসআইআর-এই ফেঁসে গেলেন পলেন ঘোষ? বিজেপি নেতার নাম কাটা যেতেই ‘রোহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের

রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী এবং ‘রোহিঙ্গা’ ইস্যু নিয়ে যখন গত এক বছর ধরে সুর চড়াচ্ছিল বিজেপি, ঠিক তখনই উলটপুরাণ জলপাইগুড়িতে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, সেখান থেকে ‘ডিলিট’ হয়ে গিয়েছে খোদ বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সভাপতি শুভঙ্কর ঘোষ ওরফে পলেন ঘোষের নাম। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে গেরুয়া শিবির, আর সেই সুযোগে বিজেপি নেতাকে ‘রোহিঙ্গা’ তকমা দিয়ে ট্রোল শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তালিকায় বড়সড় রদবদল উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে এনুমারেশন ফর্ম বিলি এবং প্রজেনি ম্যাপিং নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন চলে। জলপাইগুড়ি জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষকে লজিক্যাল হিয়ারিং সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পায়, তাতে দেখা যায় জেলার প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার মানুষের নাম হয় বিচারাধীন রাখা হয়েছে, নয়তো পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বাদ পড়াদের তালিকায় পলেন ঘোষের নাম থাকাতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

তৃণমূলের খোঁচা ও ‘রোহিঙ্গা’ বিতর্ক যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি রামমোহন রায় এই ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়েননি। তিনি সরাসরি পলেন ঘোষকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তোলেন, “আপনারাই কি এই এসআইআর চেয়েছিলেন? এখন তো আপনার নামই নেই।” এখানেই শেষ নয়, রামমোহন রায় রীতিমতো উপহাসের সুরে বলেন, “যদি নতুন করে নাম তুলতে কোনো অসুবিধা হয়, তবে পলেন বাবু যেন তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমরা সাহায্য করব।” তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিজেপি নেতাকে ‘রোহিঙ্গা’ বলে কটাক্ষ করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।

পালটা চাল পলেনের তীব্র ট্রোলের মুখে পড়েও অবশ্য দমে যাননি বিজেপি নেতা পলেন ঘোষ। তিনি পালটা যুক্তি দিয়ে বলেন, “তৃণমূলকে ধন্যবাদ আমাকে বিনামূল্যে প্রচার করে দেওয়ার জন্য। এতকাল ওরা বলছিল বিজেপি মানুষের নাম কেটে দিচ্ছে, এখন রামমোহন বাবু নিজেই বলছেন তিনি নাম তুলে দেবেন। তার মানে পরিষ্কার, যারা নাম তোলার ক্ষমতা রাখে, তারাই নাম কেটেছে। ময়নাগুড়ি বিধানসভায় যাদের নাম কাটা গিয়েছে, তার জন্য তৃণমূলই দায়ী।”

তৃণমূলের ‘অফার’ আর বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বের লড়াইয়ে জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন তুঙ্গে। বিজেপি নেতার নাম শেষ পর্যন্ত তালিকায় ফেরে কি না, সেটাই এখন দেখার।