“বাংলা দখল করতে গিয়ে বিজেপি হ্যাংলা হয়েছে”, ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে তোপ মমতার

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর এবং তাঁকে স্বাগত জানানো নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, গোটা বিষয়টি ছিল একটি ‘প্রি-প্ল্যানড গেম’ বা পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাষ্ট্রপতিকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর দায়িত্ব ছিল খোদ রাজ্যপালের, কিন্তু পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দায় রাজ্য সরকারের ওপর পড়ে।
“রাজ্যপাল কেন ইস্তফা দিলেন? তদন্ত হোক” প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে এদিন ফের সরব হন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মেয়াদের আগে রাজ্যপালকে চলে যেতে হলো? বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দখল করতে বাংলা, বিজেপি হয়েছে হ্যাংলা। কোন পর্যায়ে নামেনি এরা? সব হোটেল বুক করে রাখা হয়েছে। রাজ্যপালকে কেন চলে যেতে হলো, তার একটা ছোট তদন্ত হওয়া দরকার।” তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজ্য সরকার সিআইডি-কে দিয়ে এই তদন্ত করাতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উত্তরবঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তাকে খণ্ডন করতে চেয়ে মমতা বলেন, “আমি মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে দোষ দিই না। কিন্তু কালকের গেমটা প্রি-প্ল্যান ছিল। আমি জানতাম রাজ্যপালের বাগডোগরা যাওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করতে। এটাই তো অরিজিনাল প্রোগ্রাম ছিল।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি কিছু “লোভী লোক” নিয়ে এই নাটক সাজিয়েছে যাতে রাজ্য সরকারকে কালিমালিপ্ত করা যায়।
মহিলা ভোট ও ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ বিজেপিকে ‘মহিলা বিরোধী’ দল হিসেবে চিহ্নিত করে মমতা অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে মহিলাদের নাম কাটা হয়েছে। এমনকি তাঁর নিজের পরিবারের এক সদস্যের নামও ঠিকানা বদলের অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসআইআর (SIR) ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপির একটাই নীতি—শুধু বিজেপি খাবে আর কেউ খাবে না। আমরা বলছি, তা হবে না।”