ইরানের সিংহাসনে কে? মোজতবা খামেনেইকে বাতিলের খাতায় ফেলে ভেনেজুয়েলা মডেলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তেহরানের ক্ষমতা দখল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ঘি ঢাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইর নাম উঠে আসতেই তাঁকে “ফালতু” ও “অক্ষম” (লাইটওয়েট) বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘Axios’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, মোজতবাকে ইরানের নেতা হিসেবে দেখা তাঁর পক্ষে “অগ্রহণযোগ্য”।

ট্রাম্পের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার বৃহস্পতিবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি ভূমিকা থাকা উচিত। তিনি মোজতবা খামেনেইকে একজন “হালকা মানের নেতা” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “ওরা সময় নষ্ট করছে। খামেনেইর ছেলে স্রেফ একজন লাইটওয়েট।” ট্রাম্পের মতে, ইরানে এমন একজনের প্রয়োজন যিনি দেশটিতে “শান্তি ও সমন্বয়” ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি খামেনেইর আদর্শ বহনকারী কেউ ক্ষমতায় আসে, তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমেরিকাকে আবারও যুদ্ধে জড়াতে হবে।

ভেনেজুয়েলা মডেলের ইঙ্গিত ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানোর বিষয়টি স্পষ্ট করে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলায় ডেলসি রড্রিগেজের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে, ইরানের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমাকে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বড় রদবদল ঘটিয়েছেন ট্রাম্প। এবার ইরানের নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণেও তিনি একই ধরণের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানে এখন নেতৃত্বের চরম সংকট। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের সেই ভবনটিও ধ্বংস করে দিয়েছে যেখানে পরবর্তী নেতা নির্বাচনের জন্য ভোট গণনা চলছিল। মোজতবা খামেনেই (৫৬) বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে আসলেও, তাঁর কোনো প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নেই। পাশাপাশি, অতীতে চিকিৎসার জন্য তাঁর লন্ডন যাত্রার তথ্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার চেয়ারটি এখন বিশ্ব রাজনীতির দাবার বোড়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে।