ইরানি রণতরী ‘IRIS Dena’ ধ্বংসের আগে কী করেছিল আমেরিকা? নাবিকের বাবার বয়ানে শিউরে ওঠা তথ্য ফাঁস!

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি রণতরী ‘IRIS Dena’ ধ্বংসের ঘটনায় গোটা বিশ্বে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। মহড়া শেষে ভারতের অতিথি হিসেবে ফেরার পথেই মার্কিন টর্পেডো হানায় ধ্বংস হয় এই জাহাজটি। এবার সেই অভিশপ্ত মুহূর্তের ঠিক আগের ভয়াবহ তথ্য সামনে নিয়ে এলেন এক হতভাগ্য নাবিকের বাবা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—হামলার আগে মার্কিন বাহিনী একাধিকবার সতর্ক করেছিল ইরানের এই যুদ্ধজাহাজটিকে।

মার্কিন সতর্কবার্তা ও নাবিকের শেষ ফোন নাবিকের বাবার দাবি অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যখন IRIS Dena অবস্থান করছিল, তখন মার্কিন নৌবাহিনী বারবার রেডিও বার্তার মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল। রণতরীতে থাকা সেনা ও ক্রু সদস্যদের অবিলম্বে জাহাজ খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নাবিক হামলার ঠিক আগে বাড়িতে ফোন করেছিলেন। তিনি আতঙ্কিত গলায় জানিয়েছিলেন যে, আমেরিকা যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে এবং তাদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। একবার নয়, অন্তত দু’বার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল পেন্টাগন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্যটি হলো, আমেরিকার তরফে কড়া হুঁশিয়ারি আসা সত্ত্বেও ইরানের নৌবাহিনী বা উচ্চপদস্থ কর্তারা জাহাজ খালি করার কোনো নির্দেশ দেননি। নাবিকের বাবার বয়ান অনুযায়ী, জাহাজের ভেতরেই এই নিয়ে চরম বিবাদ শুরু হয়েছিল। অনেক সেনাকর্মী ও ক্রু সদস্য প্রাণ বাঁচাতে জাহাজ ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেও তেহরান থেকে কোনো সবুজ সংকেত না আসায় তাঁরা কার্যত মৃত্যুফাঁদে আটকে পড়েন। ৩২ জন সদস্য কেবল লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বোটের সাহায্যে কোনোমতে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন, বাকিদের পরিণতি আজও অস্পষ্ট।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম টর্পেডো হানা আমেরিকা এই হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেহসেথ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১৯৪৫-এর পর এই প্রথম আমেরিকা সরাসরি টর্পেডো ব্যবহার করে কোনো শত্রু দেশের রণতরী উড়িয়ে দিল। যুদ্ধের অংশ না হওয়া সত্ত্বেও একটি অতিথি রণতরীর ওপর কেন এই চরম পদক্ষেপ, তা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে সরব হয়েছে ইরান। ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগে যখন উত্তাল কূটনীতি, তখন নাবিকের বাবার এই বয়ান প্রমাণ করে দিল যে, প্রাণহানি এড়ানোর সুযোগ থাকলেও স্রেফ জেদের বশে অনেককেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।