তেলের দামের আগুন আর যুদ্ধের ভ্রুকুটি! ৪ দিনেই ২১,০০০ কোটির মহাসেল, ধসে পড়বে কি বাজার?

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্র থেকে ধেয়ে আসা বারুদের গন্ধে টালমাটাল ভারতের শেয়ার বাজার। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির কারণে গত মাত্র ৪টি ট্রেডিং সেশনেই ভারতীয় বাজার থেকে ২১,০০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI)। ২ থেকে ৬ মার্চের মধ্যে ঘটা এই গণ-বিক্রি লগ্নিকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। উল্লেখ্য, এর ঠিক আগেই ফেব্রুয়ারিতে ২২,৬১৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ করে গত ১৭ মাসের রেকর্ড ভেঙেছিলেন এই বিদেশি বিনিয়োগকারীরাই।

বাজার পতনের ৪টি মূল কারণ:

  • পশ্চিম এশিয়া সংকট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর থেকে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

  • অপরিশোধিত তেলের দাম: হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এটি মুদ্রাস্ফীতির বড় সঙ্কেত।

  • টাকার দামের পতন: ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির মান ৯২-এর গণ্ডি অতিক্রম করেছে। টাকা দুর্বল হলে বিদেশি লগ্নিকারীদের ডলার রিটার্ন কমে যায়, ফলে তারা বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নেয়।

  • মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় লগ্নিকারীরা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি ছেড়ে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করাকে নিরাপদ মনে করছেন।

ত্রাতা দেশীয় লগ্নিকারীরা: বিদেশি লগ্নিকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ভারতীয় বাজারকে সম্পূর্ণ ধসে পড়া থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (DII)। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডে মাসিক এসআইপি (SIP) এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের প্রবল আস্থাই বাজারের পতনকে অনেকটা সীমিত রেখেছে।

আগামী দিনে কী হতে পারে? জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের বিশেষজ্ঞ ভি কে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিদেশি লগ্নিকারীদের প্রত্যাবর্তন কঠিন। অন্যদিকে, হিমাংশু শ্রীবাস্তবের মতে, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার এই আবহে বড় লগ্নিকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের বদলে সোনা বা বন্ডের মতো নিরাপদ সম্পদে লগ্নি করতেই বেশি পছন্দ করছেন।