সমালোচকদের মুখে সপাটে চড়! বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৮ বলের তাণ্ডবে ইতিহাস অভিষেক শর্মার!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটে রান ছিল না। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একটা নড়বড়ে ইনিংস ছাড়া গোটা টুর্নামেন্টেই তিনি ছিলেন ফ্লপ। দেশজুড়ে রব উঠেছিল তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার। কিন্তু কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানতেন, বড় ম্যাচের ঘোড়া এই অভিষেক শর্মাই। সেমিফাইনালের পর যখন সবাই ভেবেছিল অভিষেককে বসিয়ে দেওয়া হবে, তখনই ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি। বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সমালোচকদের মুখে তালা লাগিয়ে দিলেন এই তরুণ বাঁহাতি ওপেনার।
পাওয়ার প্লে-তে অভিষেকের তাণ্ডব: আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এদিন টসে জিতে ভারত যখন ব্যাটিং নেয়, গ্যালারিতে তখন গুঞ্জন ছিল অভিষেকের ফর্ম নিয়ে। কিন্তু কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের রণনীতিই যেন অভিষেকের কাজ সহজ করে দিল। পাওয়ার প্লে-তে স্যান্টনার একে একে ডাফি, হেনরি, ফার্গুসন ও নিশামের মতো পেসারদের আক্রমণে আনেন। আর পেস বোলারদের বিরুদ্ধে অভিষেক যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা হাড়িকাঠে টের পেল নিউজিল্যান্ড। লকি ফার্গুসনের এক ওভারেই অভিষেক একাই নিলেন ২৪ রান!
রেকর্ড গড়া ইনিংস: পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই মাত্র ১৮ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করে ফেলেন অভিষেক। জেকব ডাফির এক ওভারে একাই ২০ রান লুটে নেন তিনি। তাঁর ব্যাটের ওপর ভর করে ভারত পাওয়ার প্লে-তেই ৯২ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে ফেলে। সাজঘরে ফেরার আগে ২১ বলে ৫২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। রাচিন রবীন্দ্রর একটি ওয়াইড লেংথ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। কিন্তু ফেরার সময় তিনি নিশ্চিত করে দিয়ে গিয়েছেন যে, ভারতের স্কোরবোর্ড যেন রকেটের গতিতে ছোটে।
গম্ভীর ও সূর্যের জেদ আর অভিষেকের প্রতিভা—এই দুইয়ের মিশেলে বিশ্বকাপের ফাইনাল এখন টিম ইন্ডিয়ার হাতের মুঠোয়।