“জেসিবি-তে মাটি কাটা দেখতে এর থেকে বেশি ভিড় হয়!”-শাহ-র সভাকে ধুয়ে দিলেন অভিষেক

যে মাঠে দাঁড়িয়ে কয়েকদিন আগে হুঙ্কার ছেড়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ঠিক সেই মাঠেই দাঁড়িয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁকে ‘নক-আউট’ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মথুরাপুরের গোপীনাথপুর মাঠ থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা থেকে শুরু করে জয় শাহর আইসিসি প্রেসিডেন্ট হওয়া— সব ইস্যুতেই চাঁচাছোলা আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
“জেসিবি-র মাটি কাটাতেও এর থেকে বেশি ভিড় হয়” বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’-কে তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “বিজেপির সভায় যা লোক হচ্ছে, তার চেয়ে গ্রামের মোড়ে জেসিবি দিয়ে মাটি কাটা দেখতে বেশি মানুষ ভিড় করেন। চায়ের দোকানে এর থেকে বেশি আড্ডা হয়।” নিজের সভার ভিড় দেখিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “আজ তো শুধু ট্রেলার দেখালাম, মে মাসে ভোটের ফলে আসল সিনেমাটা দেখবেন।”
NCRB রিপোর্ট দিয়ে শাহ-কে ‘চেকমেট’ অমিত শাহ বাংলার নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার জবাবে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা NCRB-র তথ্য তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর দাবি:
-
ধর্ষণের পরিসংখ্যানে: এক নম্বরে রাজস্থান, দুইয়ে উত্তরপ্রদেশ এবং তিনে মধ্যপ্রদেশ।
-
নারীর ওপর অপরাধে: শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ, এরপর মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান। অভিষেকের খোঁচা, “ধর্ষণের ঘটনায় গোল্ড, সিলভার আর ব্রোঞ্জ— সব মেডেলই তো বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের দখলে। আপনারা আমাদের সোনার বাংলা শেখাচ্ছেন?”
জয় শাহর আইসিসি পদ নিয়ে প্রশ্ন নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারের ১২ বছরের খতিয়ান দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট করেন যে, তিনি কখনও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। এরপরেই সরাসরি অমিত শাহের ছেলে জয় শাহকে আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি তিনবার মানুষের পরীক্ষা দিয়ে সাংসদ হয়েছি। আপনার ছেলে জয় শাহ কোন অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে আইসিসি-র প্রেসিডেন্ট হয়েছেন? আপনাদের দলের লোকেদের সাহস কত যে বাঙালির গর্ব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে দালাল বলে হেনস্থা করে!”
আক্রমণের কেন্দ্রে দিল্লি পুলিশ দিল্লিতে মহিলাদের ওপর হওয়া অপরাধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে। নিজের ঘরের নিরাপত্তা সামলাতে না পেরে বাংলা নিয়ে শাহ-র সমালোচনাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন তিনি।
শেষ কথা: এদিন মথুরাপুরের সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ইডি-সিবিআই বা কোনও চোখরাঙানিতে তৃণমূলকে দমানো যাবে না। বাংলার ১০ কোটি মানুষই তৃণমূলের আসল শক্তি।