এসি কিনতে পকেটে পড়বে টান! তামা ও ডলারের দাপটে বাড়ছে দাম, জেনে নিন কোন কোম্পানি কত বাড়াল?

গ্রীষ্মের প্রখর তাপে ঘর ঠান্ডা রাখার স্বপ্ন এবার মধ্যবিত্তের পকেটে বড় টান দিতে চলেছে। ডাইকিন, ভোল্টাস, এলজি এবং ব্লু স্টারের মতো প্রথম সারির এসি নির্মাতারা তাদের পণ্যের দাম ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। মূলত তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের আকাশছোঁয়া দাম, ডলারের তুলনায় টাকার রেকর্ড পতন এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের কারণে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

ডাইকিন ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান কানওয়ালজিৎ জাওয়া জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং তামার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোয় দাম বাড়ানো ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না। এছাড়াও, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE)-এর নতুন জ্বালানি নিয়ম কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে ৫-স্টার এসিগুলি আগের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হলেও, উন্নত প্রযুক্তির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। টাটা গ্রুপের ভোল্টাস জানিয়েছে, তারা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, এলজি তাদের ৩-স্টার মডেলে ৭ শতাংশ এবং ৫-স্টার মডেলে প্রায় ১০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। হায়ারের বর্ধিত দাম ১ মার্চ থেকেই কার্যকর হতে শুরু করেছে।

তবে দাম বাড়লেও এসি নির্মাতারা ২০২৬ সালে রেকর্ড বিক্রির আশা করছেন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর গ্রীষ্মে রেকর্ড গরম পড়বে। আশার কথা হলো, এসির ওপর জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করায় সাধারণ মানুষের ওপর বর্ধিত মূল্যের চাপ কিছুটা হলেও কমবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কারণে দাম বেশি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিলে বড় অঙ্কের ছাড় পাবেন গ্রাহকরা। তবে যারা এসি কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এখনই সেরা সময়, কারণ গরম বাড়লে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।