“স্কুলের হস্টেলে রক্তারক্তি”-ক্লাস নাইনের হাতে খুন সহপাঠী, মৃত ১, জখম অন্তত ৭!

স্কুলের হস্টেল মানেই বন্ধুত্বের আড্ডা আর পড়াশোনার জায়গা। কিন্তু কর্ণাটকের বল্লারি জেলার একটি নামী বেসরকারি আবাসিক স্কুলে সেই ছবিটাই বদলে গেল রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে। সহপাঠীদের ওপর লোহার রড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল নবম শ্রেণির এক ছাত্র। এই নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছে এক পড়ুয়া এবং গুরুতর জখম অন্তত সাতজন।
তর্কাতর্কি থেকে রক্তপাত ঘটনাটি ঘটেছে বল্লারির ‘গুরুকুল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’-এর হস্টেলে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে হস্টেলের ভেতরেই ছাত্রদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বচসা শুরু হয়। আচমকাই মেজাজ হারিয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্র বিছানার লোহার রড খুলে সহপাঠীদের ওপর এলোপাথাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় হস্টেল চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মৃত্যু ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি হামলার জেরে এক ছাত্রের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। বাকি সাতজন জখম ছাত্রকে দ্রুত উদ্ধার করে বল্লারির বিজয়নগর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (VIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
রড নাকি ছুরি? দানা বাঁধছে রহস্য ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্য়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ লোহার রড দিয়ে হামলার কথা বললেও, নিহতের পরিবারের দাবি ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, মৃত ছাত্রের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। শোকস্তব্ধ বাবা-মায়ের দাবি, “অভিযুক্ত ছাত্র হয়তো মাদকাসক্ত ছিল, নাহলে সহপাঠীদের ওপর এমন হিংস্র হওয়া সম্ভব নয়।”
তদন্তে পুলিশ, পলাতক অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছাত্র বেপাত্তা। পুলিশ তাকে ধরতে বিশেষ টিম গঠন করে তল্লাশি শুরু করেছে। স্কুল প্রশাসনের গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, “ঘটনায় ঠিক কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা ফরেনসিক রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট হবে।”
একটি নামী স্কুলের হস্টেলের অন্দরে এই ধরণের অপরাধপ্রবণতা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে বর্তমানে গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আবাসিক স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা।