যুদ্ধবিমানের দিন শেষ? ভারতের নতুন ‘কামিকাজে’ ড্রোন যেভাবে তছনছ করবে বিপক্ষের এয়ার ডিফেন্স!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক যুদ্ধ আর কেবল দামী যুদ্ধবিমান বা মিসাইলের লড়াই নয়; বরং কম খরচের ড্রোনই এখন গেম চেঞ্জার। ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন যেভাবে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে দিচ্ছে, তা দেখে নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও। ঠিক এই লক্ষ্যেই ভারত তৈরি করেছে তার নিজস্ব ‘ব্রহ্মাস্ত্র’— শেষনাগ-১৫০ (Sheshnaag-150)

বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘নিউ স্পেস রিসার্চ টেকনোলজিস’-এর হাত ধরে তৈরি এই ড্রোনটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে। সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো প্রথাগত বিমানঘাঁটি ছাড়াই সাধারণ হাইওয়ে থেকে এই ড্রোন সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। অর্থাৎ, যুদ্ধের সময় যদি শত্রুপক্ষ ভারতের এয়ারবেসগুলো ধ্বংসও করে দেয়, তবুও রাস্তাঘাট থেকেই পালটা আঘাত হানতে পারবে ভারতীয় সেনা।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষনাগ-১৫০ ড্রোনটি প্রায় ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে গিয়ে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে উড়তে পারে এবং ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক (ওয়ারহেড) বহন করতে পারে। এর স্বয়ংক্রিয় সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) একে এতটাই শক্তিশালী করে তুলেছে যে, এটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই শত্রুর সামরিক ঘাঁটি বা যান শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

শুধু শেষনাগ নয়, ভারত একই সঙ্গে ‘প্রজেক্ট KAL’-এর কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই ড্রোনগুলোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এদের ‘সোয়ার্মিং’ ক্ষমতা। অর্থাৎ, একসঙ্গে শত শত ড্রোন ঝাঁক বেঁধে শত্রুর রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিতে পারবে। কম খরচে তৈরি এই ড্রোনগুলো ভারতের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তের নিরাপত্তায় এক অভেদ্য দেওয়াল তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।