জানতেন লিক করছে ফ্রিজ, তবুও সেই দুধই বেচলেন ব্যবসায়ী! মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী অন্ধ্রপ্রদেশ

রেফ্রিজারেটরের ত্রুটি আর এক ব্যবসায়ীর চরম গাফিলতি কেড়ে নিল ১০টি তাজা প্রাণ। অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরি জেলায় বিষাক্ত দুধ খেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০। ফরেনসিক রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দুধে মিশে গিয়েছিল ফ্রিজের হিমায়ক হিসেবে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক ইথিলিন গ্লাইকল। ঘটনায় অভিযুক্ত দুগ্ধ ব্যবসায়ী আড্ডালা গণেশওয়ারা রাওকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা? তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নারাসাপুরমের বাসিন্দা গণেশওয়ারা রাও স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে তাঁর ডেয়ারি সেন্টারের ফ্রিজে রেখেছিলেন। ওই ফ্রিজের একটি চেম্বার লিক থাকায় তার ভেতরে থাকা ইথিলিন গ্লাইকল দুধের সঙ্গে মিশে যায়। সাধারণত ফ্রিজের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে রাখতে এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। লিক হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ী কোনো গুরুত্ব না দিয়ে সেই দুধই বাজারে সরবরাহ করেন। এমনকি লিক আটকাতে তিনি কোনো পেশাদার মেকানিক না ডেকে সাধারণ ‘এম-সিল’ ব্যবহার করেছিলেন।

চিকিৎসায় উঠে এল ভয়াবহ তথ্য: বিষাক্ত দুধ পানের পর আক্রান্তদের একের পর এক অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইথিলিন গ্লাইকল শরীরে প্রবেশ করলে প্রথমে বমি ও ঝিমুনি দেখা দেয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। বর্তমানে আরও ১০ জন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

জেরায় চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি: পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন যে প্রতিদিন ৮০ লিটার দুধে তিনি ৩০ লিটার কলতলার জল মেশাতেন। ফ্রিজ লিকের কথা জানলেও বিষয়টি নিয়ে তিনি সতর্ক হননি। এমনকি প্রতিবেশীরা দুধের স্বাদ তেতো হওয়ার অভিযোগ করলেও তিনি তা কানে তোলেননি। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে ১০টি খুনের মামলাসহ মোট ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।