জুতো না পরে স্কুলে, পড়ুয়াদের গলায় ‘জুতোর মালা’ পরালেন প্রধান শিক্ষক পড়ুয়াদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ তৈরি জুতো পরানো হয়েছে বলে দাবি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ

পড়াশোনা শিখে মানুষ হওয়ার জায়গায় এ এক চরম মধ্যযুগীয় বর্বরতা! স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে নির্দিষ্ট জুতো পরে না আসায় দশম শ্রেণির ১০ জন ছাত্রের গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার একটি বেসরকারি স্কুলের এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, ছাত্রদের মধ্যে ‘শৃঙ্খলা’ ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সকালে। স্কুল চলাকালীন প্রধান শিক্ষক লক্ষ্য করেন, দশম শ্রেণির ১০ জন পড়ুয়া স্কুলের জুতো পরেনি। অভিযোগ, ছাত্রদের সহবত শেখানোর নাম করে তিনি ক্লাসের মধ্যেই অন্য ছাত্রদের সামনে ওই ১০ জনের গলায় নোংরা জুতোর মালা পরিয়ে দেন। স্কুল শেষে অপমানে বিধ্বস্ত ছাত্ররা বাড়িতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিভাবকদের ক্ষোভ ও শিক্ষা দপ্তরের হস্তক্ষেপ: শনিবার ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুলে চড়াও হয়ে প্রতিবাদ জানালে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। এরপরই বিষয়টি জেলার শিক্ষা দপ্তরে পৌঁছায়। ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দুর্গা দাস স্কুলে এসে ঘটনার তদন্ত করেন। তিনি বলেন, “স্কুল কর্তৃপক্ষ জুতোর মালা পরানোর কথা স্বীকার করে নিয়েছে। আমি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছি। দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্প্রতি হরিয়ানাতেও এক স্কুল পড়ুয়াকে চড় মারার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অন্ধ্রপ্রদেশের এই নজিরবিহীন অপমানজনক ঘটনায় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে।