পর্যটকদের জন্য সুখবর! ৯ মাস পর খুলল লাচেন-গুরুদংমারের দরজা, পাহাড়-প্রেমীদের মুখে হাসি

প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল উত্তর সিকিমের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লাচেন এবং ভারতের উচ্চতম হ্রদ গুরুদংমারের প্রবেশপথ। ২০২৫ সালের জুনে বিধ্বংসী বৃষ্টি ও ধসে উত্তর সিকিম কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পর প্রায় ৯ মাস এই রুটে পর্যটন বন্ধ ছিল। রবিবার প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা করেছে।

বিপর্যয় কাটিয়ে নতুন সেতু: ২০২৫ সালের বর্ষায় উত্তর সিকিমের সংযোগকারী সেতু ও রাস্তাগুলি প্রবল ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লাচেন। উত্তর সিকিমের জেলাশাসক অনন্ত জৈন জানিয়েছেন, চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সেখানে একটি ৪০০ ফুট দীর্ঘ নতুন সেতু তৈরি করা হয়েছে। এই ব্রিজটির উদ্বোধনের পরেই পর্যটকদের জন্য পারমিট বা অনুমতিপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তায় কড়া নিয়ম: রাস্তা খুললেও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করতে চাইছে না প্রশাসন। জেলাশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী:

  • নবনির্মিত সেতুগুলি সিঙ্গেল লেনের, তাই এক সময়ে কেবল একটি গাড়িই সেতুতে উঠতে পারবে।

  • সেতুর ভার বহন করার নির্দিষ্ট ক্ষমতা মেনে চলতে হবে চালকদের।

  • একটি গাড়ি পার হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রেখে অন্য গাড়িটি চালাতে হবে।

অনলাইনেই মিলবে পারমিট: বর্তমানে ৯০ শতাংশ পারমিট ‘থার্ড মাইল’ অফিস থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পর্যটকরা বাড়িতে বসেই এই সফরের অনুমতি নিতে পারবেন। প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, চুংথাং থেকে লাচেন এবং লাচুং যাওয়ার রাস্তা এখন যথেষ্ট ভালো। পর্যটন দপ্তর এবং চেকপোস্টগুলোকে নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। ফলে ২০২৬-এর বসন্তের শুরুতে তুষারশুভ্র গুরুদংমার দর্শনে আর কোনও বাধা রইল না।