কলকাতায় বেআইনি প্রোমোটিংয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! ২ বছরে ১৬০০ ইমারতে কড়া অ্যাকশন পুরসভার

তিলোত্তমায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেআইনি নির্মাণ রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে কলকাতা পুরনিগম (KMC)। গার্ডেনরিচ বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই ভয়াবহ স্মৃতি আর বিরোধী শিবিরের লাগাতার আক্রমণকে ঢাল করে এবার শুদ্ধিকরণ অভিযানে নামল পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। গত দুই বছরের পরিসংখ্যান বলছে, শহরের ১৬০০-র বেশি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুরসভার তথ্যে চাঞ্চল্যকর মোড়: কলকাতা পুরনিগমের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মাসে শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা ৮৫০টিরও বেশি বেআইনি নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আইনি নোটিশ দিয়ে ভাঙা হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় কোনও আগাম বার্তা না দিয়েই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা অতর্কিত অভিযান চালিয়ে ধুলিসাৎ করা হয়েছে বহুতল।

জরিমানা দিয়ে ছাড়ের তালিকাও দীর্ঘ: যাবতীয় বেআইনি নির্মাণ ভাঙা না হলেও, কড়া ব্যবস্থা থেকে রেহাই পায়নি কেউ। তথাকথিত ‘মাইনর ডেভিয়েশন’ বা নকশার সামান্য বিচ্যুতি থাকা প্রায় ৭০০টি ইমারতকে জরিমানা করা হয়েছে।

  • ৫০০ বর্গফুটের নিচে থাকা ৪৮০টি নির্মাণকে জরিমানা নিয়ে রেগুলারাইজ করা হয়েছে।

  • ৭৫০ বর্গফুটের ১৫০টি এবং ১০০০ বর্গফুটের প্রায় ৮০টি নির্মাণ জরিমানার জালে পড়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: পুরসভার এই সক্রিয়তাকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বিরোধী কাউন্সিলরদের অভিযোগ, আর্থিক প্রতিপত্তি যাঁদের বেশি, তাঁরা জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সামান্য চ্যুতিতে ভেঙে পড়ছে গরিবের মাথার ছাদ। তৃণমূল আমলে কলকাতাকে ‘বেআইনি নির্মাণের মুক্তাঞ্চল’ বলেও তোপ দেগেছেন তাঁরা।

ফিরহাদ হাকিমের সাফাই: পাল্টা জবাবে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমাদের বোর্ড বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। তবে কলোনি এলাকায় কিছু পুরনো বাড়ির ক্ষেত্রে মানবিকতার খাতিরে কিছুটা ছাড় দিতে হয়। কিন্তু নতুন করে কোনও আইন লঙ্ঘন বরদাস্ত করা হবে না।”