আপনার যাতায়াতের বাস কি এবার ভোটের কবলে? নতুন ভাড়ার তালিকা দেখে চমকে যাবেন!

দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। ভারতের নির্বাচন কমিশন যে কোনও মুহূর্তে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। আর নির্বাচন মানেই ভোটকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাতায়াতের জন্য হাজার হাজার বাসের প্রয়োজন। প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসন বেসরকারি বাস অধিগ্রহণের (Requisition) প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। ভাড়ার হার এবং বকেয়া টাকা নিয়ে এবার কার্যত যুদ্ধের মেজাজে বেসরকারি বাস সংগঠনগুলি।
কেন এই অসন্তোষ? বেসরকারি বাস সংগঠন ‘জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট’-এর অভিযোগ, গত আট বছর ধরে রাজ্যে বাসের ভাড়া বাড়েনি। অথচ জ্বালানির দাম থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আকাশছোঁয়া। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরনো হারে ভাড়া দিয়ে এবার বাস ছাড়া সম্ভব নয়। এই মর্মে ইতিমধ্যে পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং পরিবহন সচিব সৌমিত্র মোহনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বাস মালিকদের নতুন ভাড়ার দাবি: মালিকপক্ষ সাফ জানিয়েছে, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সরকারকে টাকা মেটাতে হবে। তাদের দাবি করা দৈনিক ভাড়ার তালিকাটি নিম্নরূপ:
-
মিনিবাস: জ্বালানি খরচ বাদে প্রতিদিন ৪,০০০ টাকা।
-
সাধারণ বেসরকারি বাস: জ্বালানি খরচ বাদে প্রতিদিন ৪,৫০০ টাকা।
-
এক্সপ্রেস বা লাক্সারি বাস: জ্বালানি খরচ বাদে প্রতিদিন ৫,০০০ টাকা।
-
কর্মী খরচ: চালক ও খালাসির খোরাকি বাবদ প্রতিদিন ৫০০ টাকা (যা আগে অত্যন্ত নগণ্য ছিল)।
বকেয়া টাকার পাহাড় ও অগ্রিম দাবি: মালিকদের ক্ষোভের আরও একটি বড় কারণ হল বকেয়া টাকা। অভিযোগ, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভাড়ার টাকা এখনও অনেক জেলায় মেটানো হয়নি। তাই এবার শর্ত দেওয়া হয়েছে, বাস নেওয়ার আগেই ভাড়ার ৭৫ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে। বাকি ২৫ শতাংশ টাকা ভোট মেটার ১৫ দিনের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কলকাতা এবং জেলাগুলিতে ইতিমধ্যে পুলিশ ও আরটিও (RTO) থেকে রিকুইজিশন লেটার পাঠানো শুরু হয়েছে। কিন্তু মালিকদের এই অনড় মনোভাব বজায় থাকলে ভোটের সময় সাধারণ মানুষের যাতায়াত যে চরম ভোগান্তির মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, নবান্ন এই দাবি মেনে নিয়ে জট কাটায়, নাকি নির্বাচনের মুখে বাস নিয়ে বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি হয়।