“মমতার পাশে না থাকলে সে বাঙালিই নয়!” বিতর্কিত মন্তব্যের পর এবার খোদ রাষ্ট্রপতিকেই তোপ মহুয়ার

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর এবং তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হলো তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজভবনের মধ্যে। শিলিগুড়ির সাঁওতাল সম্মেলনে রাজ্য সরকারের অনুপস্থিতি এবং অব্যবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রপতির উষ্মাপ্রকাশের পালটা দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর সাফ দাবি, রাষ্ট্রপতি মোদী সরকারের শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন এবং নির্বাচনের আগে বাংলার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় মহুয়া মৈত্র বলেন, “শ্রদ্ধেয়া রাষ্ট্রপতি, সৌজন্য দেখালে সৌজন্যই ফেরত পাওয়া যায়। আপনি বাংলার রাজ্য সরকারের কোনো অনুষ্ঠানে আসেননি, এসেছিলেন একটি বেসরকারি সংস্থার আমন্ত্রণে। সেই অনুষ্ঠানের কোনো ত্রুটির জন্য নবান্ন দায়ী নয়।” মহুয়া আরও অভিযোগ করেন, প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বিজেপির শাসনে উপজাতিদের ওপর অত্যাচার বাড়লেও তিনি নীরব থেকেছেন। মণিপুরে মহিলাদের ওপর নারকীয় অত্যাচার বা মধ্যপ্রদেশের প্রস্রাবকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া প্রশ্ন তোলেন, “তখন কেন আপনার মুখে কথা সরেনি?”
নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাষ্ট্রপতির এই ধরনের মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে তৃণমূল শিবির। মহুয়ার কথায়, “আমাদের মাটিতে এসে আমাদের মানুষদের অপমান করবেন না। নিজের পদের অপব্যবহার করে বিজেপির এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন না।” এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, বিজেপির দাবি এটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের চরম অবমাননা।