বেসরকারি অনুষ্ঠানের দায় কেন রাজ্যের? দিল্লি গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে ‘রিপোর্ট কার্ড’ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মমতার

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা এবার চরমে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অপমান’ সংক্রান্ত অভিযোগের পালটা দিতে গিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই নারী ও দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের অবমাননার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চ থেকে একটি বড় ব্যানারে পুরনো একটি ছবি তুলে ধরে মোদীকে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দাঁড়িয়ে লালকৃষ্ণ আদবানিকে সম্মান দিচ্ছেন, অথচ সেই সময় তাঁর পাশেই একটি আসনে বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ছবিকে হাতিয়ার করে মমতা বলেন, “রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন আর প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। আমরা কখনও এমনটা করি না। একজন সাধারণ মহিলা এলেও আমরা সম্মানে দাঁড়িয়ে পড়ি। আর আপনারা বলছেন আমরা সম্মান দিই না?” প্রধানমন্ত্রীর টুইটের জবাব দিয়ে মমতা সাফ জানান, দার্জিলিংয়ের অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বেসরকারি সংস্থার। রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল ওই সংস্থার সামর্থ্য নেই এমন বড় অনুষ্ঠান করার। অথচ এখন অব্যবস্থাপনার দায় রাজ্যের ওপর চাপিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভোটপাখি’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “নির্বাচন এলেই আপনার বাউড়ি, বাগদী, লোধা, শবর, মুন্ডা, সাঁওতালদের কথা মনে পড়ে। বাকি সময় কোথায় থাকেন?” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং এয়ারপোর্ট অথরিটির এলাকাতেই ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এদিন ১০ জন বিধায়ক ও সাংসদকে নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করেছেন মমতা। এই কমিটি দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলায় আদিবাসী উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ জমা দেবে বলে জানান তিনি।