রাষ্ট্রপতির নিশানায় নবান্ন! “বুলবুলিতে ধান খেয়েছে…” মোদী-মমতার যুদ্ধংদেহী মেজাজে তপ্ত পাহাড় থেকে সাগর

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে নতুন অগ্নিকুণ্ড তৈরি হলো রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে। দার্জিলিংয়ের আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসে প্রকাশ্য মঞ্চে আয়োজক ও রাজ্য সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি অভিযোগ করেন, যাতায়াতের অসুবিধার কারণে অনেক আদিবাসী ভাই-বোন এই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। এমনকি সফরের সময় রাজ্যের কোনো মন্ত্রীর দেখা না মেলায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এই ইস্যুতেই ময়দানে নামেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার একজন আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। পবিত্র অনুষ্ঠান বয়কট করে তাঁরা সংবিধানের অবমাননা করেছেন। বাংলার মানুষ এই অহংকার ক্ষমা করবে না।”
পাল্টা দিতে দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এসআইআর বিরোধী মঞ্চ থেকে তিনি সাফ জানান, অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বেসরকারি সংস্থার। রাজ্য সরকার আয়োজক ছিল না এবং প্রোটোকল মেনে মেয়র ও জেলাশাসক তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। মমতার প্রশ্ন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যে যখন আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার হয়, তখন রাষ্ট্রপতি কেন চুপ থাকেন? মণিপুর নিয়ে কেন তিনি নীরব?” অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্র আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতি বিজেপির শিখিয়ে দেওয়া বুলি আওড়াচ্ছেন। বেসরকারি অনুষ্ঠানের দায় কেন রাজ্যের ওপর চাপানো হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। ভোটের মুখে রাষ্ট্রপতিকে সামনে রেখে বিজেপির এই ‘রাজনীতি’র বিরুদ্ধে এখন সরব তৃণমূল শিবির।