“রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে, মোদী বসে!” তুঙ্গে বিতর্ক— ভোট আসতেই বাংলায় কেন ‘টার্গেট’, ফুঁসে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী

নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও রাজপথের লড়াইয়ে পারদ চড়ছে। এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মান এবং রাজ্যের এক বিতর্কিত অনুষ্ঠান ঘিরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর বিরোধী ধর্নামঞ্চ থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে যথাযথ সম্মান দেন না। এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন, আর দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, তাঁর লড়াই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে নয়, বরং কেন্দ্রের ‘অহংকারী’ আচরণের বিরুদ্ধে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁর বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ তুললে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে থামিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে আক্রমণ নয়, ওনার কোনো দোষ নেই। দোষ তাদের যারা তাঁকে যথাযথ মর্যাদা দিতে পারে না।” এই ছবিকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘অসম্মানজনক’ মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির থাকা এবং শৌচাগার ব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তার দায় সরাসরি রাজ্য সরকারের ওপর চাপানো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। মোদীর টুইটের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “ভোট এলেই বাংলায় ভোটপাখির মতো হাজির হন প্রধানমন্ত্রী। যে অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে, সেটি কোনো সরকারি প্রোগ্রাম ছিল না। একটি বেসরকারি সংস্থা সেটি আয়োজন করেছিল এবং যে জায়গায় হয়েছে সেটি এয়ারপোর্ট অথরিটির। সেখানে অব্যবস্থা হয়ে থাকলে তার দায় আয়োজকদের, রাজ্য সরকারের নয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোট সামনে আসায় বাংলাকে বদনাম করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্রকে সম্মান করি। বেসরকারি সংস্থার ব্যর্থতার দায় আমাদের ওপর চাপানো আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

Samrat Das
  • Samrat Das