সোনার খনির চাবিকাঠি এখন হোয়াইট হাউসের হাতে? ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তির অজানা রহস্য

আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি নতুন সোনার চুক্তি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। চুক্তির শর্তানুসারে, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনি সংস্থা ‘মাইনারভেন’ সরাসরি মার্কিন বাজারে সোনা সরবরাহ করবে। এই পদক্ষেপকে কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা, বরং একে ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদের ওপর মার্কিন আধিপত্যের নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইনারভেন পণ্য সরবরাহকারী সংস্থা ‘ট্রাফিগুরা’র মাধ্যমে ৬৫০ কেজি থেকে শুরু করে ১০০০ কেজি পর্যন্ত উচ্চমানের সোনার বার রপ্তানি করবে। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, সরবরাহকৃত সোনার বিশুদ্ধতা হতে হবে অন্তত ৯৮ শতাংশ। এই সোনা সংগ্রহের পর ট্রাফিগুরা তা মার্কিন শোধনাগারগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে, যার জন্য মার্কিন সরকারের কাছ থেকে বিশেষ ছাড়পত্র ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই চুক্তির বিনিময়ে ভেনেজুয়েলা মার্কিন ডলারে অর্থ গ্রহণ করবে। ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, এই অর্থ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যবহৃত হবে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য কেবল সোনা নয়, বরং ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করা। ইতিমধ্যে ট্রাফিগুরা ভেনেজুয়েলার ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে তেলের প্রবাহ পুনরায় সচল হয়েছে এবং এই পেশাদার সম্পর্ক ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন ডলারের আধিপত্য এবং খনিজ সম্পদের দখল নিয়ে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে, তখন এই চুক্তি ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন কক্ষপথের আরও কাছে নিয়ে এল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই নতুন সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার জ্বালানি বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।