হোলির দিনে বেলুন ছোড়াকে কেন্দ্র করে প্রাণ গেল তরুণের! খুনের বদলা নিতে অভিযুক্তের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

দিল্লির উত্তমনগরে হোলির রাতে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর রবিবার এলাকা কেঁপে উঠল বুলডোজারের আওয়াজে। গত ৪ মার্চ হোলির দিন ৯ বছরের এক শিশুর বেলুন ছোড়াকে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে ২৬ বছর বয়সী তরুণ তরুণ কুমারের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত নিজামুদ্দিনের বাড়ির অবৈধ অংশ আজ মিউনিসিপাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (এমসিডি) গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: হোলির রাতে এক প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ থেকে একটি জলভর্তি বেলুন এক মহিলার গায়ে লাগাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ঝগড়া ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। অভিযোগ, নিজামুদ্দিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল লোহার রড, লাঠি ও ইট নিয়ে তরুণ কুমারের ওপর হামলা চালায়। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ছাত্র তরুণ তার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন।

পুলিশি অ্যাকশন ও বর্তমান পরিস্থিতি: এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে। এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে এলাকায় আরএএফ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করতে হয়। আজ এমসিডি জানিয়েছে, নিজামুদ্দিনের সম্পত্তির অবৈধ অংশ চিহ্নিত করেই এই ভাঙার কাজ চালানো হয়েছে। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপকে অনেকে অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ হিসেবে দেখছেন। যদিও দীর্ঘদিনের পুরনো বিবাদ থেকে এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত, তবুও হোলির দিনে এমন ঘটনায় দিল্লিজুড়ে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।