রাত বাড়তেই দাউদাউ আগুন! মৌড়িগ্রাম স্টেশনের পাশে ধ্বংসলীলা, সর্বস্ব হারালেন ব্যবসায়ীরা

গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো হাওড়ার মৌড়িগ্রাম রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা। শনিবার রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ স্টেশনের পাশে থাকা সারিবদ্ধ দোকানগুলিতে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় একের পর এক দোকান। মুহূর্তের এই ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রেললাইনের ধারের একটি তেলেভাজার দোকান থেকে প্রথম ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। শুকনো কাঠ, টিন ও বাঁশের কাঠামোয় তৈরি দোকানগুলো হওয়ায় আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পলকেই আগুনের ভয়াবহ রূপ দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাজিরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। পরে দমকলের দুটি ইঞ্জিন দীর্ঘ এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিক্রম বল জানান, “আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে দোকানে ঢোকার কোনো সুযোগই পাইনি। সব চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল।” অপর এক দোকানদার মহাদেব সামন্ত কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “এক রাতেই রুজিরুটি শেষ হয়ে গেল, এখন কীভাবে সংসার চলবে জানি না।”

দমকলের প্রাথমিক অনুমান, অন্তত ১০টি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনে দোকানের সমস্ত মালপত্র ও সরঞ্জাম পুড়ে ছাই। ভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও দমকল অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। শর্ট সার্কিট নাকি উনুনের আগুন থেকে এই বিপত্তি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক রাতেই স্বপ্নভঙ্গ হওয়া ব্যবসায়ীরা এখন সরকারি সাহায্যের দিকে তাকিয়ে আছেন।