“ভারতের ওপর কোনো চাপ নেই!” রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের ‘সবুজ সংকেত’, নেপথ্যে কোন রহস্য?

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ততই বাড়ছে অস্থিরতা। এই সংকটময় মুহূর্তে ভারতকে সাময়িকভাবে রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিল মার্কিন প্রশাসন। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা গূঢ় কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই নয়া দিল্লিকে এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বার্তা: “উদ্বেগের কারণ নেই”
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহ পথ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজারকে স্থিতিশীল করতে ভারতের মতো বন্ধু রাষ্ট্রকে পাশে চায় ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের কথায়, “তেলের জোগান নিয়ে খুব বেশি উদ্বেগের কারণ নেই। পৃথিবীতে প্রচুর তেল রয়েছে এবং আমাদের দেশেও বিপুল ভাণ্ডার মজুত। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
৩০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’
মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, ভারতের তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান কিছু নির্দিষ্ট রুশ তেলের চালান কিনতে পারবে। এর জন্য ভারতকে ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। মার্কিন জ্বালানি দফতরের আধিকারিক ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, “সমুদ্রে অনেক তেলের চালান আটকে রয়েছে। আমরা আমাদের বন্ধু ভারতকে বলেছি, সেই তেল কিনে নিজেদের রিফাইনারিতে নিয়ে যেতে।”
সীমিত ও সাময়িক ব্যবস্থা
আমেরিকা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার ওপর জারি করা দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার নীতির কোনও পরিবর্তন নয়। এটি মূলত:
-
স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা: বিশ্ববাজারে তেলের দামের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি আটকানোই এর মূল লক্ষ্য।
-
সরবরাহ বজায় রাখা: যুদ্ধের কারণে যাতে তেলের জোগান বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করা।
[Table: এক নজরে তেলের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি]
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
| মার্কিন অবস্থান | ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার ছাড়। |
| প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি | বিশ্বে ও আমেরিকায় পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। |
| মূল লক্ষ্য | মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমানো। |
| ভারতের ভূমিকা | সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ চালানগুলি শোধন করবে। |
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই নমনীয় মনোভাব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে এই ‘অস্থায়ী অনুমতি’ শেষ হওয়ার পর ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক রসায়ন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।