সুরক্ষার অজুহাতে ব্রাত্য রাষ্ট্রপতি? বাগডোগরায় অব্যবস্থা নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল তুলকালাম!

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। যা কেবল রাজনৈতিক তরজায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, স্বয়ং রাষ্ট্রপতির কণ্ঠেও শোনা গিয়েছে উষ্মা। শনিবার শিলিগুড়ির বাগডোগরায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন দেশের সাংবিধানিক প্রধান।
কী ঘটেছিল বাগডোগরায়? প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতির এই কর্মসূচি ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এরপরই অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করে বাগডোগরার উত্তরা মাঠে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখানেও চরম অব্যবস্থার অভিযোগ ওঠে। অপরিচ্ছন্ন মাঠ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির গ্রিন রুম—সবকিছু নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি নিজে। এমনকি মঞ্চ থেকেই তাঁকে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির চাঞ্চল্যকর মন্তব্য বাগডোগরার অনুষ্ঠান শেষ করে আচমকাই প্রোটোকল ভেঙে বিধাননগরের উদ্দেশে রওনা দেন দ্রৌপদী মুর্মু, যেখানে প্রথমে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখানে পৌঁছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপরই বিস্ফোরক ভঙ্গিতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না আমি এখানে আসি। এখানে পাঁচ লক্ষ মানুষের বসার জায়গা আছে, অথচ সুরক্ষার অজুহাত দেওয়া হলো। হয়তো মুখ্যমন্ত্রী আমার ওপর রাগ করে আছেন।” রাষ্ট্রপতির মুখে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে এমন মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিজেপি বনাম তৃণমূল: রাজু বনাম গৌতম এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসরে নেমেছেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত। তিনি বলেন, “এটি কেবল রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, আদিবাসী ও সাঁওতাল সমাজের অপমান। যে জায়গায় সুরক্ষার দোহাই দিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করা হলো, সেখানেই রাষ্ট্রপতি পৌঁছে প্রমাণ করে দিলেন রাজ্য সরকার মিথ্যে বলছে।”
পাল্টা নথিপত্র নিয়ে ময়দানে নামেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, “এটি একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান ছিল। রাজ্য সরকার লিখিতভাবে জানিয়েছিল যে ওই মাঠটি রাষ্ট্রপতির জন্য সমীচীন নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি ভবনের সুরক্ষা বিভাগ দায়ভার নিয়ে অনুষ্ঠান করেছে। এখানে রাজ্যের কোনও গাফিলতি নেই। বিজেপি দেশের সাংবিধানিক প্রধানের পদ নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে এবং তাঁর গরিমা নষ্ট করছে।”
ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসে রাষ্ট্রপতির এই সফর ঘিরে যে তপ্ত আবহাওয়া তৈরি হলো, তার রেশ ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে সহজে কাটবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।