“রাষ্ট্রপতির সফরে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ”-রিপোর্ট চাইল শাহর মন্ত্রক

শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফর ঘিরে ঘনিয়ে ওঠা বিতর্কে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। সরাসরি হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করেছে। আজ, রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যেই এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে নবান্নে এখন সাজ সাজ রব।
কেন ক্ষুব্ধ রাইসিনা হিলস?
শনিবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসে একগুচ্ছ অব্যবস্থার সম্মুখীন হন রাষ্ট্রপতি। প্রোটোকল অনুযায়ী রাজ্য মন্ত্রিসভার কোনও প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়েই রাষ্ট্রপতি বলেন, “মমতা দিদি আমার ছোট বোনের মতো। তিনি হয়তো কোনও কারণে আমার ওপর রাগ করেছেন। এত বড় মাঠ থাকতেও ইচ্ছে করেই এখানে সভা করতে দেওয়া হয়নি। আমি বাংলার মেয়ে, অথচ আমাকে বাংলায় আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
মোদী-শাহের জোড়া আক্রমণ
রাষ্ট্রপতির এই আক্ষেপের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
-
নরেন্দ্র মোদী: এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “এই ঘটনা লজ্জাজনক। তৃণমূল সরকার শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে।”
-
অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘নৈরাজ্যের প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর নির্দেশেই আজ জরুরি ভিত্তিতে মুখ্যসচিবের কাছে কৈফিয়ত চাইল দিল্লি।
“আপনি ট্র্যাপড হয়ে গিয়েছেন”— পাল্টা তোপ মমতার
পাল্টা দিতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে দিয়েও এখন রাজনীতি বিক্রি করানো হচ্ছে। আপনার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আপনি বিজেপির পলিসি আর ইনস্ট্রাকশনের কাছে ট্র্যাপড হয়ে গিয়েছেন।” মমতার দাবি, রাষ্ট্রপতিকে সামনে রেখে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছে বিজেপি।
বিকেল ৫টার মধ্যে জমা দেওয়া রিপোর্টে নবান্ন কী যুক্তি সাজায় এবং তার ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। লোকসভা নির্বাচনের মুখে এই ‘রাষ্ট্রপতি বনাম রাজ্য’ সংঘাত যে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।