“করো দেখি রাষ্ট্রপতি শাসন, আমি দু-দিন ঘুমিয়ে নেব!” ২০২৬-এর আগে হুঙ্কার মমতার, তুঙ্গে নির্বাচন নিয়ে জল্পনা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনীতির অলিন্দ। এবার সরাসরি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের’ কথা। রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হওয়া নিয়ে যখন টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মমতার এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি শুনেছি তামিলনাড়ুতে যে রাজ্যপাল সবচেয়ে বেশি গন্ডগোল করেছেন, তাঁকে কেন বাংলায় পাঠানো হচ্ছে? এর নেপথ্যে কি কোনো ব্লুপ্রিন্ট রয়েছে? করো তোমরা রাষ্ট্রপতি শাসন, আমি একটু তোমাদের চেহারাটা দেখতে চাই। তাতে তো আমারই ভালো হবে, দু-একদিন বেশি ঘুমিয়ে নেব।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, রাজ্যপাল বদল এবং ভোটার তালিকার কাজ শেষ না হওয়াকে তিনি ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন।

অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই চাইছেন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক। যাতে তিনি সাধারণ মানুষের সামনে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলতে পারেন। অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত জানিয়েছেন, রাজ্যে যে অরাজক পরিস্থিতি চলছে এবং খোদ নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা যেখানে সুরক্ষিত নন, সেখানে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনই একমাত্র পথ।

বর্তমানে ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ শেষ করতে পারবে কি না, তা নিয়েই দানা বেঁধেছে সংশয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি মে মাসের মধ্যে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়, তবে সাংবিধানিক সংকট এড়াতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।