“৫০ বার এলে কি যেতেই হবে?”-রাষ্ট্রপতির তোপের মুখে বিস্ফোরক মমতা, চরম সংঘাতে কেন্দ্র-রাজ্য!

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরে ‘প্রোটোকল লঙ্ঘন’ নিয়ে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। শিলিগুড়িতে দেশের প্রথম নাগরিকের নিরাপত্তা এবং আতিথেয়তায় খামতি থাকার অভিযোগে রীতিমতো ‘অ্যাকশন মোডে’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, আজ রবিবারের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব।
বিকেল ৫টার ডেডলাইন: রিপোর্টে কী জানতে চাইল কেন্দ্র?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। নবান্নকে পাঠানো চিঠিতে মূলত তিনটি বিষয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে:
-
রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ব্লু বুক’ (Blue Book) কেন মানা হয়নি?
-
সঠিক রুটের তথ্যের অভাব এবং প্রোটোকল ভাঙার কারণ কী?
-
অভ্যর্থনা ও বিদায় জানানোর সময় মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব (CS) বা ডিজিপি কেন অনুপস্থিত ছিলেন?
অভিযোগের পাহাড়: শৌচাগারে জল নেই, রাস্তায় আবর্জনা!
শনিবারের সফর ঘিরে যে সব তথ্য সামনে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অভিযোগ উঠেছে:
-
রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে শুধুমাত্র শিলিগুড়ির মেয়র উপস্থিত ছিলেন, যা প্রোটোকল বিরোধী।
-
এমনকি রাষ্ট্রপতির জন্য সংরক্ষিত শৌচাগারে জল ছিল না এবং প্রশাসনিক সভার রাস্তা ছিল আবর্জনায় ভরা।
-
সফরের মাঝপথেই হঠাৎ রুট পরিবর্তন নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
অমিত শাহের তোপ: “গণতন্ত্রের ওপর আঘাত”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইট করে মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার ভারতের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করে নিজেদের সর্বনিম্ন স্তরে নিয়ে গিয়েছে। এটি ভারতীয় সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আক্রমণ।” প্রধানমন্ত্রী মোদীও এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
“সব বার যাওয়া সম্ভব নয়”, সাফ জবাব মমতার
সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন:
-
“আমি রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করি, কিন্তু তিনি ৫০ বার রাজ্যে এলে আমার পক্ষে প্রতিবার সশরীরে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়।”
-
রাজ্যের দাবি, এই নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে রাজ্য সরকার আগে থেকে বিশদভাবে অবগত ছিল না।
পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির জল্পনার মাঝেই রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে এই সংঘাত কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ককে এক চরম উত্তেজনার মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিকেলের রিপোর্টের পর দিল্লি কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।