পাহাড়ে পৌঁছল রসদ! অসম থেকে ত্রিপুরা—ফেব্রুয়ারিতে ১১৯১টি মালবাহী রেক খালি করে রেকর্ড রেলের

উত্তর-পূর্ব ভারতের লাইফলাইন হিসেবে ফের নিজের জাত চেনাল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মালবাহী পরিষেবা এবং পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে এই রেলওয়ে জোন। রেলের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় পণ্যবাহী রেক আনলোডিংয়ের ক্ষেত্রে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান: রেল সূত্রে খবর, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১,১৯১টি মালবাহী রেক আনলোড করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যাটি ছিল ১,১৩৭। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেলের কর্মদক্ষতা এবং পরিকাঠামোগত উন্নতিরই প্রতিফলন। এর ফলে একদিকে যেমন রেলের রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী পরিষেবার মানও অটুট রাখা সম্ভব হচ্ছে।
রাজ্যওয়াড়ি সরবরাহের খতিয়ান: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে এনএফআর।
-
অসম: এখানে সবথেকে বেশি ৬৫৫টি রেক আনলোড হয়েছে, যার মধ্যে ৩০৮টি ছিল খাদ্যশস্য ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য।
-
ত্রিপুরা ও অন্যান্য: ত্রিপুরায় ৮৫টি, নাগাল্যান্ডে ১৭টি, অরুণাচল প্রদেশে ৯টি, মণিপুরে ১৬টি এবং মিজোরামে ৭টি রেক আনলোড করা হয়েছে। মেঘালয়েও পৌঁছেছে পণ্যবাহী রেক।
-
পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার: এই জোনের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের অংশগুলিতে ২২২টি এবং বিহারে ১৭৯টি রেক খালি করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্ট এবং কয়লার মতো জরুরি পণ্যগুলি দ্রুত গুডস শেডে হ্যান্ডেল করার ফলে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ফিল্ড পর্যায়ের ইউনিটগুলোর কঠোর নজরদারি এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ কমানো সম্ভব হয়েছে। এই গতিশীলতা অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং শিল্পজাত পণ্যের জোগান বজায় রাখতে অক্সিজেন হিসেবে কাজ করছে।